করোনার প্রভাবে আয়ের সুযোগহারা অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১১

কোভিড-১৯-এর প্রভাবে আয়ের সুযোগ হারিয়েছেন বেশির ভাগ নারী উদ্যোক্তা ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী নারী। তাদের বেশিরভাগই পারিবারিক সহিংসতা, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, উদ্বেগসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবু আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।

‘কোভিড-১৯ মহামারিতে কুটির, অতি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প উদ্যোক্তা এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী নারীদের অবস্থা’ শীর্ষক এক দ্রুত সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের উদ্যোগে অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ প্রোগ্রাম এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করে। সমীক্ষার ফল প্রকাশে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘কাজে ও ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী’ শীর্ষক ডিজিটাল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

ব্র্যাকের পরিচালক নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সালাম। প্যানেল বক্তা ছিলেন ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারপারসন পারভিন মাহমুদ, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, তরঙ্গ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনূর ইয়াসমিন, অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ঊর্ধ্বতন পরিচালক শামেরান আবেদ প্রমুখ। সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এর কারণে উদ্যোক্তাদের ৬৫ শতাংশেরই কোনো উপার্জন নেই। এ মহামারির সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটি ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আরোপের ফলে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীদের ৫৮ শতাংশই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। উদ্যোক্তাদের ৬৭ ভাগ আয় কমে গেছে, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মজীবীদের আয় কমেছে ৬৬ ভাগ। ফলে ৯০ ভাগ নারী উদ্যোক্তা এবং ৮৪ ভাগ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী নারী সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই দেশের ২৮ জেলার ১৭৪টি উপজেলায় জরিপ পরিচালিত হয়। মোট ১ হাজার ৫৮৯ জন নারী এতে অংশ নেন, যার মধ্যে ৫৮৯ জন উদ্যোক্তা এবং ১ হাজার জন কর্মী। অংশগ্রহণকারীদের ৩২ ভাগ হলেন গ্রামীণ নারী, বাকি ৬৮ ভাগ শহরাঞ্চলের।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই দুর্যোগকালে উদ্যোক্তাদের ৩৩ শতাংশই তাদের ব্যবসায় উদ্যোগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন, ৪১ ভাগ উদ্যোক্তা কর্মীদের কর্মবিরতিতে (লে অফ) পাঠিয়েছেন। ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক সংকটগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেননি। কর্মজীবী নারীদের ৩৯ শতাংশ বলেছেন, টিকে থাকার জন্য আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে তাদের ঋণ নিতে হয়েছে। মহামারির এই সময়টাতে পরিবার থেকেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা বলেছেন ৪৬ ভাগ উদ্যোক্তা আর ৭২ ভাগ কর্মজীবী নারী, যাদের বেশিরভাগই তীব্র মানসিক চাপে ভুগেছেন বলে জানান।