ইত্তেফাক রিপোর্ট
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, যদি কোনো চুক্তির ভিত্তিতে চেক ইস্যু করা হয়ে থাকে, আর সেই চুক্তি যদি পূরণ না হয় তবে চেকদাতার কোনো দায়বদ্ধতা নেই। অথবা ঐ চেকের ভিত্তিতে পাওনা চেয়ে কোনো অভিযোগ করা যাবে না। আবুল কাহের শাহীন বনাম ইমরান রশিদ ও অন্যান্য মামলায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।
মামলার অন্যতম কৌঁসুলি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, বৈধ চুক্তির বিপরীতে যদি কোনো চেক দেওয়া হয় তবে সেই চুক্তির যে শর্তগুলো থাকে সেই শর্তগুলো প্রতিপালন সাপেক্ষে চেকটি নগদায়ন করা যাবে। কিন্তু কোনো কারণে ঐ চুক্তির শর্তসমূহ প্রতিপালন না হলে সেক্ষেত্রে ঐ চেকটি নগদায়ন করা যাবে না। ঐ চেকের বিপরীতে কোনো মামলা করা হলেও তা ফলদায়ক হবে না বলে জানান এই আইনজীবী।
জানা যায়, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর ছোট ভাই কায়সার রশিদ চৌধুরীর সহধর্মিণী সামছি খানমের মৃত্যুর পর তার মালিকানাধীন গুলশানের ৩০ কাঠা জমির উত্তরাধিকারী হন তার তিন সন্তান। পরবর্তী সময়ে এই জমি একটি দেশের দূতাবাসের কাছে বিক্রি করা হয়। জমিটি বিক্রির আগেই আবুল কাহের শাহিন নামের এক ব্যক্তি সামছি খানমের সন্তান ইমরান রশিদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জমিটি ১৫০ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেবেন বলে জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তির পর ইমরান রশিদ সাড়ে ৪ কোটি টাকার চারটি চেক দেন আবুল কাহেরকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি বিক্রি করে দিতে না পারায় ইমরান রশিদ চারটি চেক ফেরত চান। কিন্তু কাহের চেক ফেরত না দিয়ে সিলেটের আদালতে পৃথক চারটি মামলা করেন। ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালত ইমরান রশিদকে চার বছরের কারাদণ্ড (প্রতিটি মামলায় এক বছর করে) এবং ৯ কোটি টাকা জরিমানা করে। আপিল করে ঐ বছরের ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে তিনি খালাস পান। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন কাহের। আপিল বিভাগ তার আবেদন খারিজ করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ রায় দেয়।
