মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
কর্ণফুলী নদীতে উত্তাল ঢেউ। ঢেউয়ের নিচে নদীর তলদেশে চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের সুড়ঙ্গ নির্মাণ কাজ। ওপর থেকে বুঝার উপায় নেই নিচে টানেল নির্মাণ কাজ চলছে। ইতিমধ্যে টানেল প্রকল্পের ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। টানেলের দুটি সুড়ঙ্গের মধ্যে একটি পশ্চিম প্রান্তে ঢুকে পূর্বপ্রান্তে বের হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টানেলের নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
টানেলের কাজ শেষ হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। নদীর অপর পাশে আনোয়ারা অংশে গড়ে উঠবে আরেকটি চট্টগ্রাম। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আবাসন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হবে। চীনের সাংহাইয়ের মতো চট্টগ্রাম হবে ওয়ান সিটি টু-টাউন।
করোনার মধ্যেও সীমিত পরিসরে প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ চলেছে। টানেল নির্মাণ কাজে জড়িত প্রায় ৩০০ চীনা নাগরিক নিজ দেশে ছুটিতে ছিলেন। গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানেলের কাজ হয়েছে ৫ শতাংশ। এখন চীনা নাগরিকরা কোয়ারেন্টাইন শেষে কাজে যোগ দিয়েছেন। ২ হাজার ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একপাশের সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ হয়েছে। সুড়ঙ্গ করতে বোরিং মেশিন ব্যবহার করতে হয়েছে। এখন বোরিং মেশিনের যন্ত্রাংশ খুলে আবার পশ্চিম প্রান্তের পতেঙ্গা এলাকায় আনতে হবে। আগামী নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় সুড়ঙ্গ খনন কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি উভয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজও চলছে।
প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী হারুণ-অর রশিদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনার মধ্যেও প্রকল্পের কাজ চলেছে। না হয় এতটুকু কাজ করা যেতো না। টানেলের একটি সুড়ঙ্গ খনন কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরো প্রকল্পের ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনো সড়ক নির্মাণসহ অনেক কাজ বাকি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’
চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (সিসিসি) নামে ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান টানেলের নির্মাণ কাজ করছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।
জানা যায়, নদীর তলদেশে দুটি টানেল টিউব নির্মিত হবে। টানেলের প্রতিটি টিউবের চওড়ায় হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউব দিয়ে গাড়ি পতেঙ্গা এলাকার প্রবেশ মুখ দিয়ে ঢুকবে। আরেকটি টিউব দিয়ে টানেলের পূর্ব প্রান্তের প্রবেশ মুখ দিয়ে ঢুকে পতেঙ্গা এলাকায় বের হবে। টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। বড় যানবাহনও দ্রুত গতিতে চলতে পারবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, টানেল নির্মাণে ১৯ হাজার ৪৮৮টি সেগমেন্ট লাগবে। চীনের কারখানায় দিনে ৩২টি সেগমেন্ট তৈরি হচ্ছে। বোরিং মেশিন দিয়ে খনন করার সঙ্গে সঙ্গে পিছনে টিভিএম মেশিনের পেছন থেকে কংক্রিটের সেগমেন্টগুলো একটি রেল ট্রাক দিয়ে ঢুকছে। তারপর আটটি ভাগে ভাগ হয়ে রিং আকারে একটির সঙ্গে অন্যটি লেগে দেওয়াল হয়ে যাচ্ছে। প্রতি ৮টি সেগমেন্টে দুই মিটারের একটি রিং তৈরি হয়। খনন আর পাকা দেওয়াল নির্মাণ সবই হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। টানেলের বাইরে উভয় পাশে প্রায় ১১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও চলছে।
