সাভারের আমিনবাজার ও রাজধানীর গাবতলী এলাকার নদীপথের ত্রাস দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গাংচিল বাহিনীর প্রধান সালাউদ্দিন ওরফে এমপি সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ সময় তার দুই সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, হেরোইন, ইয়াবা এবং দেশীয় অস্ত্র। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাভারের আমিনবাজার এলাকার সালেহপুর থেকে তাদের আটক করে র্যাব-৪-এর সদস্যরা। আটককৃত দুই সহযোগীর নাম মো. আকিদুল এবং মো. আসাদ।
র্যাব-৪-এর অপারেশন অফিসার (এএসপি) জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানান, গাংচিল বাহিনীর সদস্যরা সাভার, আমিনবাজার, গাবতলী, ভাকুর্তা, কাউন্দিয়া, বেড়িবাঁধ, কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদকের কারবার, ডাকাতি, খুনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন সালাউদ্দিন ওরফে এমপি সালাউদ্দিন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সালাউদ্দিন ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। এ সময় সালাউদ্দিনের সঙ্গে থাকা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ১৯০ গ্রাম হেরোইন, ৫০০ পিস ইয়াবা এবং দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় খুন, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে। এগুলো সবই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বাহিনী তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর বালুভর্তি ট্রলার, ইটের কার্গোতে ডাকাতি ও আমিনবাজার এলাকার শতাধিক ইটভাটা থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করত। এছাড়াও এলাকার প্রভাবশালীদের টার্গেট করে গাংচিল বাহিনীর সদস্যরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করাই ছিল তাদের কাজ।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে ভয়ংকর গাংচিল বাহিনীর উত্থানের পর থেকেই তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এ বাহিনীর প্রধান ছিল আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার। ২০১৭ সালে আনারের মৃত্যুর পর তার প্রধান সহযোগী সালাউদ্দিন ওরফে এমপি সালাউদ্দিন এ সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। গাংচিল বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০০২ সালে সাভার থানার এক এসআইকে হত্যা, ২০০৭ সালে দুই র্যাব সদস্যকে হত্যা, দিয়াবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্র লুট এবং আমিনবাজার এলাকায় নৌ-পুলিশ টহল দলের অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িত থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রয়েছে।
