করোনা মহাদুর্যোগে স্থবির হইয়া পড়িয়াছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে আশার খবর হইল, সাময়িক স্থবিরতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরিয়া দাঁড়াইতেছে। বিশেষ করিয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মেগা প্রকল্পের কাজ আবার শুরু হওয়ায় দেশবাসী আশ্বস্ত হইতেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানিয়াই নূতন কৌশলে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ চালাইয়া নেওয়ার যে বাস্তবতা তৈরি হইয়াছে, তাহার মাধ্যমে বাংলাদেশ নূতন দৃষ্টান্ত স্থাপন করিতে পারিবে বলিয়া আমাদের বিশ্বাস। পদ্মা সেতুর কাজ বহুদূর আগাইয়া গিয়াছে। এই সেতু চালু হইলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলাইয়া যাইবে। বাড়িবে জাতীয় প্রবৃদ্ধি। রাজধানীতে মেট্রোরেলের কাজ আবার পূর্ণ উদ্যমে শুরু হওয়ায় মানুষের হতাশা কাটিয়া যাইতেছে। বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞও আবার শুরু হইয়াছে। ইহার মাধ্যমে বদলাইয়া যাইবে আমাদের উত্তরের দিগন্ত। গাজীপুরে যাইতে যেইখানে এখন তিন ঘণ্টারও অধিক সময় লাগে, তখন সময় লাগিবে মাত্র আধা ঘণ্টা। ১০০ আর্টিকুলেটেড বাস ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করিবে। ইহাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হইয়া উঠিবে।
এখানে প্রশ্ন আসে, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হইলেও আমাদের আকাশপথের কি কোনো উন্নয়ন হইবে না? উন্নয়নের অন্যতম একটি পূর্বশর্ত হইল বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং পৃথিবীর যেই সকল দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে রহিয়াছে, তাহাদের সহিত মেলবন্ধন রচনা করা। এইজন্য দেশের স্থল, নৌ, সমুদ্র ও বিমানবন্দরসমূহের উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া বাঞ্ছনীয়। আশার কথা হইল, করোনা মহামারির মধ্যেও আমাদের বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির অগ্রগতি অব্যাহত রহিয়াছে। ক্রমেই দৃশ্যমান হইতেছে অ্যাভিয়েশন খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন। প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ আগাইয়া চলিয়াছে। আগাইয়া চলিয়াছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী ও কক্সবাজার, রাজশাহীর শাহ মখদুম, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল ও খুলনার খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ চোখে পড়ে। যাহারা সরকারবিরোধী, তাহাদেরও অনেকে এই সকল উন্নয়ন অগ্রযাত্রার কথা অস্বীকার করিতে পারিতেছেন না; কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে আরো কিছু খাত রহিয়াছে, যেইখানে এখন আলোকসম্পাত করিবার সময় আসিয়াছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের মহাউদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাহাতে কিছু কিছু দ্রুত পচনশীল ও অধিক উত্পাদিত মৌসুমি পণ্য বা ফসল সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ইহাতে উত্পাদনকারীরা লাভবান হইবেন। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত হাট-বাজারগুলির উন্নয়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। এই বাজারগুলি সড়ক-মহাসড়ক হইতে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করিতে হইবে, যাহাতে যানজট হইতে রক্ষা পাওয়া যায়। অর্থমন্ত্রী গতকাল সহযোগী একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলিয়াছেন যে, চলতি বত্সর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চীন, ভারত, ভিয়েতনামও আমাদের পিছনে থাকিবে। একটু কমিটেড থাকিলে তুলনামূলকভাবে অধিক সাফল্য অর্জন বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব নহে।
