বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১১

পুঁজির অভাবে অনেক কারখানাই বন্ধ

সাইদুর রহমান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি 

করোনা ভাইরাসের মধ্যেই তিন দফা বন্যায় তলিয়ে ছিল সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তত আট শতাধিক তাঁতশিল্প কারখানা। এখন বন্যার পানি তাঁত কারখানা থেকে নেমে গেলেও কাদামাটি মেখে অচল হয়ে পড়ে আছে তাঁতগুলো।

বন্যার পানি ওঠায় মাসাধিককাল বন্ধ থাকায় তাঁতে ব্যবহার্য কাঁচামাল নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। নতুন করে আবার শুরু করার পুঁজির অভাবে অনেক কারখানাই এখন বন্ধ। আকস্মিকভাবে আসা বন্যার পানিতে সিরাজগঞ্জের সদর, বেলকুচি, চৌহালী, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার অধিকাংশ তাঁত কারখানাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, করোনার কারণে বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে ক্রেতার আগমন নেই বললেই চলে। গত দুইটি ঈদে কাপড়ের বিক্রি ছিল না বললেই চলে। এর মধ্যে তিন দফা বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটিয়েছে।

শাহজাদপুর পৌর এলাকার তাঁতপল্লি রূপপুর নতুন পাড়ার রহমত আলী (৭০) বলেন, দুটি তাঁত বন্ধ থাকায় চার সদস্যের পরিবারের জীবন যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ মাসে তার ১ লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় এখন অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটছে। অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে। একই এলাকার শফিকুল ইসলামের ১৬টি তাঁত, রুহুল আমিনের ১২টি তাঁত, আলম কাজীর ১০টি হ্যান্ডলুম ও আটটি পাওয়ারলুম বন্ধ রয়েছে।

বেলকুচি উপজেলা তাঁতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও তাঁতি নেতা রফিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই শিল্পটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁতিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলীও সহজ শর্তে তাঁতিদের ঋণ প্রদানের আহ্বান জানান।

বেলকুচি তাঁত বোর্ডের লিয়াজোঁ অফিসার তন্নি জানান, করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতের তালিকা চলমান রয়েছে। তাঁত বোর্ডকে জানানো হয়েছে, তারা অনুদান দিলেই তা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতিদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আর তাঁতিদের ঋণের জন্য তালিকা করা হচ্ছে যা স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ জানান, তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তাঁত বোর্ড ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতমালিক ও শ্রমিক যেন বরাদ্দ পায় সেদিকে নজর রাখা হবে। ইতিমধ্যে ৪০০ শ্রমিককে আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদেরও দেওয়া হবে।