ত্রিশাল-কানিহারী সড়ক
ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ত্রিশাল-কানিহারী সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বড় আকারের খানাখন্দ গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যানচলাচল। সম্প্রতি বৃষ্টির সময় কয়েকদিনে ভ্যানগাড়ি, রিকশা, সিএনজি, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলসহ অর্ধশত যানবাহন ঐসব গর্তে পড়ে উলটে গেছে। এতে আহতও হয়েছেন অনেকে। সড়কের দুরবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
জানা যায়, সড়কটির বেশির ভাগ অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন হলেও পৗরসভার রাস্তার পর থেকে কাকচর গ্রাম হয়ে বড়মা মোড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার সওজের অধীন।
স্থানীয়রা জানান, ১০ কিলোমিটারের ত্রিশাল-কানিহারী সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া ভাঙন ও গর্তের কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন রামপুর ইউনিয়নের কাকচর, কানিহারী ইউনিয়নের বড়মা, সুরুলিয়ার কান্দা, তালতলা, এলংজানি, দেওপাড়া, সেনবাড়ী, বিয়ার্তা, কুষ্টিয়া ২য় খণ্ডসহ ১০-১২টি গ্রামের মানুষ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে ১০ কিলোমিটারের ঐ সড়ক জুড়ে। সবচেয়ে বড় গর্তের দেখা মিলে রামপুর ইউনিয়নের কাকচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মুন্সি বাড়ির সামনে। সড়কের দক্ষিণ পাশে ফিসারির বাঁধ। এতে পাকা সড়কের মধ্যখানে পানিতে থৈ থৈ। বুঝার কোনো উপায় নেই পানির নিচে প্রায় তিন ফিট গর্ত। আতিকুল ইসলাম খোকা, নুরুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন, সুরুজ আলী, বাবুল মিয়া, ইজ্জত আলী, ইলিয়াস আলীসহ স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনে ভ্যানগাড়ি, রিকশা, সিএনজি, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলসহ অর্ধশত যানবাহন অদৃশ্য ঐ গর্তে পড়ে উলটে গেছে। এতে আহতও হয়েছেন অনেকে।
কানিহারী ইউনিয়নের এলংজানি গ্রামের দরিবাড়ীর সামনে সড়কে বিশাল এক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে পড়ে যানবাহন উলটে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান জসিম উদ্দিন, শাহজাহান, হারুনসহ স্থানীয়রা। কানিহারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী উজ্জল জানান, ব্যাপক খানাখন্দে ১০ কিলোমিটারের ত্রিশাল-কানিহারী সড়ক বেহাল। আমার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ উপজেলা সদরে চলাচল করেন ঐ সড়ক দিয়ে। দ্রুত সংস্কার কাজ না হওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, পৌরসভার রাস্তার পর থেকে কাকচর হয়ে বড়মা মোড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের অধীনে নিয়ে গেছে। গেজেটও হয়েছে। তবে গত বছর বড়মার মোড় থেকে সেনবাড়ী পর্যন্ত সড়কের দরপত্র হয়েও তা বাতিল হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে আবার নতুন করে দরপত্র দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, পৌরসভার রাস্তার পর থেকে কাকচর গ্রাম হয়ে বড়মা মোড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার সওজের অধীন। সড়কটি সংস্কারে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই টেন্ডার হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে। অচিরেই রাস্তাটি মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
