নিলয় মামুন
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই অবসরে যাওয়ার পূর্বে তড়িঘড়ি করে বোর্ড বসিয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। প্রক্রিয়াধীন এই ফাইল বর্তমানে মেয়রের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব বিভাগের জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার কথা, কিন্তু সেটি না করে অন্য বিভাগ থেকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে রাজস্ব বিভাগে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পদোন্নতির জন্য যাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে তারা হলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল আজিজ, মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হোসেন দেওয়ান, জোনাল অফিসারের ব্যক্তিগত সহকারী যুবরাজ দেবনাথ, উচ্চমান সহকারী জহিরুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী আইয়ুব হোসেন ও উচ্চমান সহকারী কামাল রেজা। এদের সবাইকে উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে ৩ থেকে ২১ বছর যাবত্ দায়িত্ব পালন করা বেশিরভাগ কর্মকর্তাকেই এই পদোন্নতিতে রাখা হয়নি।
বাদ পড়াদের ক্ষেত্রে অনেককে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) প্রদান করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিগত বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন পরবর্তী বছরের মার্চের মধ্যে সংস্থার কাছে আসে। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে এ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় থেকেই পাঠাতে বিলম্ব করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, যেখানে ৩১ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত গত বছরের প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি করে আদেশ জারি করা হয়েছে। অথচ সিটি করপোরেশনের পদোন্নতির জন্য বসা বোর্ডে মার্চের ভেতর কেন প্রতিবেদন দাখিল করা হলো না এই অজুহাত দেখিয়ে বেশিরভাগ কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো ফাইল এখনো তার কাছে আসেনি। এ বিষয়ে তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ইত্তেফাককে বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। সমতার ভিত্তিতেই পদোন্নতির বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। কারো ওপর কোনো জুলুম অবশ্যই করা হবে না।
