তিন মাসের ব্যবধানে শীর্ষ ৯ দেশে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪৫ ভাগ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৯

করোনার থাবা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের থাবায় ব্যাপকভাবে কমে গেছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এর ফলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাকের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আগের তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় সার্বিকভাবে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ৯টি গন্তব্যে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশে পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। এর বেশির ভাগ দেশেই পোশাক রপ্তানি হয়। তবে শীর্ষ পোশাক রপ্তানির তালিকায় থাকা দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও কানাডা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত আলোচ্য দেশগুলোতে রপ্তানি হয়েছে মোট ৩০৪ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পণ্য। এর আগের তিন মাস অর্থাত্ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পোশাকপণ্য।

এছাড়া আলোচ্য সময়ে অন্য দেশসহ সার্বিকভাবে বাংলাদেশের পোশাকপণ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৮৪ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলারের। আগের তিন মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮০৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের পোশাকপণ্য। অর্থাত্ আলোচ্য সময়ে আগের তিন মাসের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচ্য ৯টি দেশের তুলনায় বাদবাকি দেশে সম্মিলিতভাবে পোশাক রপ্তানির অবস্থা বেশি খারাপ। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে ৯ দেশের বাইরে অন্যান্য দেশে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ঐ সব দেশে রপ্তানি হয়েছে ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারের। আর তার আগের তিন মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ২৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শীর্ষ ৯টি দেশের মধ্যে গত অর্থবছরের শেষ তিন মাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। আলোচ্য সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭৭ কোটি ডলারের পোশাকপণ্য। এর তিন মাস আগে দেশটিতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। অর্থাত্ তিন মাসের ব্যবধানে সেখানে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের। জার্মানিতে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে ১৪৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হলেও পরবর্তী তিন মাসে তা নেমে এসেছে ৬৮ লাখ ডলারে। রপ্তানি কমার হার ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাজ্যে কমেছে ৬১ শতাংশ, ফ্রান্সে ৩৬ শতাংশ, স্পেনে ৬৬ শতাংশ, ইতালিতে ৪১ শতাংশ, বেলজিয়ামে ৫২ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ৫৫ শতাংশ এবং কানাডায় কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ।

অবশ্য জুনের পর শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরের ইতিমধ্যে দুই মাস পার হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক রপ্তানি। দুই মাসে পোশাক রপ্তানি না বাড়লেও পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের প্রায় সমান হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও রপ্তানিতে গতি রয়েছে বলে রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন। তবে আগামী মাসগুলোতে কী হয়, তা এখনো তাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার প্রকোপ থাকলেও বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি চালু হওয়ায় আমাদের পোশাক রপ্তানিতেও গতি থাকবে।