আট রাজ্যেই নির্ধারিত হবে জয়-পরাজয়

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৫

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ইতিমধ্যে আগাম ভোট শুরু হয়ে গেছে চার অঙ্গরাজ্যে। বেশ কিছু রাজ্যে ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি অন্য দেশের তুলনায় ভিন্ন এবং কিছুটা জটিল হওয়ায় একজন প্রার্থী নাগরিকদের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট হন না, বরং ইলেকটোরাল কলেজ নামে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশেষ নির্বাচনি ব্যবস্থা আছে, তার মাধ্যমেই ঠিক হয় কে হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটকে বলা যায় ‘ইলেকটোরাল ভোট’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ভিন্ন ভিন্নসংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট আছে। দুটি ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিয়ম হলো—যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পাবেন, তিনি ঐ রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যাবেন। এইভাবে সব রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ হয়ে যে প্রার্থী ২৭০টি ভোট পাবেন, তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দল। বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে এ দুই দলের প্রভাব রয়েছে। কিছু রাজ্য রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান প্রার্থীই জয়ী হন। কিছু রাজ্য ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে বরাবরই ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয়ী হন। তবে এর বাইরে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে, যেখানে এ দুই দলের কারো একচ্ছত্র প্রভাব নেই।  হাতে গোনা এসব অঙ্গরাজ্যের ভোট প্রার্থীদের কারণে যে কোনো শিবিরে যেতে পারে। এসব রাজ্য সুইং স্টেট (দোদুল্যমান রাজ্য) নামে পরিচিত। মূলত এসব রাজ্যেই নির্ধারিত হয় কে প্রেসিডেন্ট হবেন। এসব রাজ্যেই প্রচারণার বিনিয়োগ ও ব্যয় সবচেয়ে বেশি।

মার্কিন সাময়িকী পলিটিকোর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে আটটি অঙ্গরাজ্যে। এগুলো হলো—অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, মিনেসোটা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন। সব মিলিয়ে এই আট রাজ্যে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ১২৭টি।

তবে এর মধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা, মিশিগান, উইসকনসিন ও অ্যারিজোনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ এই অঙ্গরাজ্যগুলোতে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে অল্প ব্যবধানে হিলারি ক্লিন্টনের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাজেই এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য এই রাজ্যগুলোর ইলেকটোরাল কলেজ ভোট ধরে রাখা খুবই জরুরি হবে।

পলিটিকোর খবরে বলা হয়েছে, এই সুইং রাজ্যগুলোতেই নির্ভর করছে ট্রাম্প ও বাইডেনের ভাগ্য। বর্তমান অবস্থায় গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া জাগাতে হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। অন্যদিকে শহরগুলোতে সমর্থন জোরালো করতে হবে বাইডেনকে। বিশেষ করে এসব রাজ্যের আফ্রিকান-আমেরিকান ভোট বাইডেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হিসপ্যানিক ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে হবে।

জনমত জরিপগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত  সুইং অঙ্গরাজ্যগুলোতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। রিয়াল ক্লিয়ার পলিটিকসের জরিপ অনুযায়ী, আটটি রাজ্যের বেশির ভাগেই এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ফ্লোরিডায় ৪৯ শতাংশ, অ্যারিজোনায় ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ, মিশিগানে ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ, মিনেসোটায় ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ, পেনসিলভানিয়ায় ৪৯ শতাংশ এবং উইসকনসিনে ৫০ শতাংশের মতো জনসমর্থন রয়েছে জো বাইডেনের। 

যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে। বর্তমান জরিপের ফলাফল জো বাইডেনের পক্ষে হলেও নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি। আর অতীত রেকর্ড থেকে দেখা গেছে, দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে জনমত জরিপ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যে কোনো সময় যে কোনো দিকে যেতে পারে।