মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ট নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
কপোতাক্ষ নদ
১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রেখো মা,দাসেরে মনে,এ মিনতি করি পদে।
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
ক.চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবককে কী বলে? ১
খ.সনেটের বৈশিষ্ট্য কেমন? ২
গ.‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মূল সুর এক- মন্তব্যটির যথার্থতা নির্ণয় কর। ৪
ক. চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক বলে।
খ.সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতার বৈশিষ্ট্য হলো এর স্তবকবিন্যাস সুনির্দিষ্ট এবং বিষয়বস্তুতে থাকে একটি অখণ্ড ভাবের প্রকাশ।
সনেট অর্থাত্ চতুর্দশপদী কবিতা হয়ে থাকে চৌদ্দ চরণবিশিষ্ট। প্রতিটি চরণে চৌদ্দটি অক্ষর থাকে। সনেটের অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এর চরণগুলো দুভাগে বিভক্ত। প্রথম আট চরণকে অষ্টক আর শেষ ছয় চরণকে ষষ্টক নামে অভিহিত করা হয়। বিষয়বস্তুর অখণ্ডতা হলো ভাবের প্রবর্তনা ও ভাবের পরিণতি। সনেটের অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা থাকে আর ষষ্টকে গিয়ে ভাবের পরিণতি বা সমাপ্তি ঘটে।
গ.‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে দিকটি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো স্মরণে রাখার মিনতি। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদের প্রতি কবির আকর্ষণের দিকটিকে তুলে ধরা হলেও এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দিক উপস্থাপিত হয়েছে। কবি প্রবাসে থেকেও কপোতাক্ষ নদের প্রতি মিনতি জানিয়েছেন যেন নদ তাঁকে স্মরণে রাখে। তাঁর মনে দীনতার ভাব এনে তিনি কপোতাক্ষ নদের কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন যেন নদ তাঁকে বিস্মৃত হয়ে না যায়। এরূপ স্মরণে রাখার মিনতির দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে। উদ্দীপকেও আমরা দেখি স্মরণে রাখার অনুরোধের দিকটি উপস্থিত। এখানে যে ইচ্ছা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা হলো দেশের মাটিতে স্মরণীয় হয়ে থাকার ইচ্ছা। কবি স্বদেশকে ভালোবাসেন। আর তাই তিনি চান তাঁর মৃত্যুর পর স্বদেশ যেন তাঁকে ভুলে না যায়। স্বদেশের বুকে যেন তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকেন। আবার ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও অনুরূপ দিক উপস্থিত। কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্বদেশপ্রেম অতি উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয়েছে উক্ত কবিতায়। বড় হওয়ার পর প্রবাসে চলে গেলেও কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদকে কিছুতেই ভুলতে পারেননি। সুদূর প্রবাসেও কবি এই নদকে বন্ধুর মতো মনের গভীর থেকে স্মরণ করেছেন। আর তাই কবি কপোতাক্ষ নদের কাছে মিনতি করেছেন যে, তিনি কপোতাক্ষ নদকে যেভাবে বন্ধুভাবে স্মরণ করেছেন, কপোতাক্ষ নদও যেন তাঁর কথা এভাবেই স্মরণ করে। স্বদেশকে ভালোবেসে স্বদেশের বুকে স্মরণীয় হয়ে থাকার এই মিনতিই উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
ঘ.উদ্দীপক ও ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় স্মরণে রাখার অনুনয় প্রকাশ পাওয়ায় উভয়ের মূল সুর এক। প্রতিটি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার স্বদেশ। স্বদেশের প্রতি মানুষের মনে ভালোবাসা থাকে, তবে এই ভালোবাসা এমনিতেই তৈরি হয় না। এটি আসে ব্যক্তির উপলব্ধি থেকে। ব্যক্তি যখন বুঝতে পারে তখন সে দেশের জন্য প্রাণ দিতেও তৈরি থাকে। বিভিন্নভাবে মানুষের স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পায়। স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই স্বদেশের বুকে বেঁচে থাকার ইচ্ছা জেগে ওঠে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা ও উদ্দীপকে এই স্বদেশপ্রেমই সুগভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে দেশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন দেশ ব্যক্তিকে স্মরণে রাখে। নিজেকে দাস বিবেচনা করে মনের সাধ দেশের কাছে ব্যক্ত করা হয়েছে উদ্দীপকে। স্বদেশের প্রতি স্মরণে রাখার যে মিনতি প্রকাশ পেয়েছে তা গভীর দেশপ্রেমেরই পরিচায়ক। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও অনুরূপ দিকটি উপস্থিত। উক্ত কবিতায় দেখা যায়, কবি তাঁর সাহিত্যসাধনা ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে পৃথিবীর নানান দেশ ভ্রমণ করেছেন,সেখানে থেকেছেন। কবি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক নদ-নদী দেখেছেন। তবে নিজের দেশের, নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের মতো কোনো নদ-নদী কবির চোখে পড়েনি। কোনো নদ-নদীই কবির স্নেহের তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। প্রবাসে অবস্থানকালে কপোতাক্ষ নদের স্মৃতি কবিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বারবার নদকে দেখার ইচ্ছা কবিমনে জেগে ওঠে।
