সা ক রা ই ন

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৩

ঘুড়ি ওড়ানো, বোকাট্টা আর আগুন খেলার উত্সব সাকরাইন। চক্ষুদার, ভোয়াদার, পানদার, কথাদার, মালাদার, পঙ্খি, পঙ্খিরাজ, চলনদার, পেটিদার, পাংদার, প্রজাপতি, দাপস, চিল, মানুষ, কচ্ছপ ঘুড়িসহ সাকরাইনে পুরান ঢাকার আকাশে কত ঘুড়িই না ওড়ে।

১৪ জানুয়ারি পৌষ মাসের শেষদিন। পৌষসংক্রান্তির এই দিনই পালিত হয় পুরান ঢাকার এবং আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের সাকরাইন উত্সব, যা অনেকের কাছে ঘুড়ি উত্সব নামে পরিচিত। ভোরবেলা কুয়াশার আবছায়াতেই ছাদে ছাদে শুরু হবে ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট বড় সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত থাকবে প্রতিটি ছাদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়বে উত্সবের জৌলুস। আর শীতের বিকেলে ঘুড়ির কাটাকাটি খেলায় উত্তাপ ছড়াবে সাকরাইন উত্সব। এক দশক আগেও ছাদে ছাদে থাকতো মাইকের আধিপত্য। আজ মাইকের স্থান দখল করেছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। উত্সবের আমেজ থাকবে পুরান ঢাকার সর্বত্র। আকাশে উড়বে ঘুড়ি আর বাতাসে দোলা জাগাবে গান। মাঝে মাঝে ঘুড়ি কেটে গেলে পরাজিত ঘুড়ির উদ্দেশ্যে ধ্বনিত হবে ভাকাট্টা লোট শব্দযুগল।

প্রাচীনকাল থেকেই পৌষসংক্রান্তিতে ঢাকায় ঘুড়ি ওড়ানোর মেলা বসে। সেই মোগল আমলে ১৭৪০ সালের দিকে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি ওড়ানো একটি উত্সবে পরিণত হয়েছিল বলে জানা যায়। আরো জানা যায়, নবাববাড়িতে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা হতো। প্রতিযোগিতার মাসখানেক আগেই শুরু হতো প্রস্তুতি। ঘুড়ি ও নাটাই তৈরি, সুতায় মাঞ্জা দেওয়া সব মিলিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ। ঘুড়ি কাটাকাটির জন্যই সুতায় মাঞ্জা দেওয়া হতো।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও বাংলাদেশে পৌষ মাসের শেষে ঘুড়ি আর জমকালো আতশবাজির মাধ্যমে পালন করা হবে পৌষসংক্রান্তি বা সাকরাইন উত্সব। সাকরাইন শুধু ঘুড়ি ওড়ানোর উত্সব নয়। পুরান ঢাকার ঘরে ঘরে চলবে মুড়ির মোয়া, ভেজা বাখরখানি আর পিঠা বানানোর ধুম। যারা সাকরাইনে ভেজা বাখরখানি খেতে আগ্রহী তারা চলে যাবেন গেন্ডারিয়ায়। এ দিন পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ, মুরগিটোলা, কাগজিটোলা, গেন্ডারিয়া, বাংলাবাজার, ধূপখোলা মাঠ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সদরঘাট, কোটকাচারী এলাকার মানুষ দিনব্যাপী ঘুড়ি ওড়ায়, খাবারের আয়োজন করে, সন্ধ্যা আগুন নিয়ে খেলে আর ফায়ারওয়ার্কস তো থাকেই! সন্ধ্যা থেকে ফায়ারওয়ার্কসের লাল নীল আলোয় আলোকিত হয়ে যায় পুরান ঢাকা।