করোনার কারণে সিলেটের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকার পর আবারও গত মাস থেকে ঐসব শুল্ক স্টেশনগুলো খোলে দেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থানে না আসলেও তামাবিত্ল দিয়ে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ট্রাক মালামাল নিয়ে আসছে বলে জানান সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের একজন কর্মকর্তা। অন্যান্য শুল্ক স্টেশনগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য বাড়ছে। কিন্তু বিশেষ করে ভারত থেকে কয়লা, পাথর, চুনাপাথর, আদাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এখন নতুন জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।
সিলেটের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এমনিতেই ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা। এর মধ্যে কাস্টমস বিভাগ আমদানিকৃত মালামালের ওপর যে ‘অযৌক্তিক’ ট্যাক্স নির্ধারণ করে, তাতে ব্যবসা লাঠে উঠা ছাড়া উপায় থাকবে না। তারা বলেন, আমদানিকৃত মালামালের ওপর করোনার আগে এলসি করে বিপদে পড়েছি। তাই বাধ্য হয়ে কিছু কিছু মাল আনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা যথানিয়মে ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু কাস্টমস বিভাগকেও বাস্তবতা বুঝতে হবে। কারণ ভারত সীমান্তের কাস্টমস বিভাগে পণ্য মাপের জন্য ‘ওয়েট ব্রিজ’ নেই। তারা ফিতা দিয়ে পণ্য মেপে পে-লেডার দিয়ে ট্রাকে উঠিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের কাস্টমস বিভাগের ‘ওয়েট ব্রিজের মাপের সঙ্গে ঐ মাপ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। একটি গাড়িতে ১২ টন পাথর বা কয়লা উঠালে এখানের মাপে হয়ে যাচ্ছে ১৫ টন। এই মাপে শুল্ক দিয়ে পাথর আমদানি করে লোকসান হয়।
সিলেট কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের যুগ্ম কমিশনার মো. মিনহাজ উদ্দিন গত সোমবার রাতে ইত্তেফাককে বলেন, সিলেটে রাজস্ব আয়ের মূল উত্স ভারত থেকে আসা কয়লা, পাথর ও ফলমূলকে ঘিরে। হোটেল-রিসোর্টও আয়ের অন্যতম উত্স। তিনি জানান, করোনাকালীন সময়ে সিলেটের রাজস্ব আয়ের ঘাটতি মেটাতে তারা যথাযথ চেষ্টা করছেন। পাথর আমদানিকারকদের দাবি সম্পর্কে বলেন, প্রধানন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি চিঠি এসেছে। সেখানে ১ থেকে দেড় টন পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখ আছে।
এ প্রসঙ্গে সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা বলেন, মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা মানা হয় না।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এটিএম শোয়েব বলেন, সিলেটে মূলত সীমান্ত বাণিজ্য ও পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি। তামাবিল, শেওলা, ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশন খুলেছে। তাই এই খাতকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।
