সাবেক ভিপি নুরকে আটক নিয়ে পুলিশের নাটক

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৩৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরম্নল হক নুরকে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশ নিয়ে গেছে। এর আগে সন্ধ্যায় তাকে ডিবি পুলিশ আটক করে। কিছুড়্গনের মধ্যে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। রাত ১০টার দিকে তাকে পুলিশ পাহাড়ায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। এর আগে নুরসহ ৬ জনের বিরম্নদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

গতকাল রাত ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার ওয়ালিদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নূরকে আটক করা হয়েছে। তবে কোন মামলায় বা ডিবি না থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম ইত্তেফাককে বলেন, কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নুরকে আনা হয়েছিল, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, গত ৩ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর নবাবগঞ্জ রোডের একটি বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ওই ধর্ষণের ঘটনায় ভিপি নুরসহ ৬ জনের বিরম্নদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন ওই ছাত্রী। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকি। এদের মধ্যে মামুন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যরা একই সংগঠনের কর্মী।

মামলার প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে নুর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় নুরের সহযোগীরা বিড়্গোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মত্স্য ভবন এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। সেখানে নুরসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের ৫ জন আহত হয়। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন। তারা হলেন- এএসআই সুজন চন্দ্র দে, গোলাম হোসেন, জাহিদ হাসান, মঞ্জুরুল হক ও কামাল হোসেন।