গেল এক দশক ধরেই আলোচিত ছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ডটি। গত বছর সমন্বিত উদ্যোগের পরে এলাকার বাসিন্দারা ট্রাকস্ট্যান্ড মুক্ত শৃঙ্খলিত এলাকার স্বপ্ন দেখলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো বহাল সেই ট্রাকস্ট্যান্ড। এর আগে নির্দিষ্ট একটি সড়কে অর্থাত্ নিতাইগঞ্জের মূল সড়কে লোড-আনলোড চললেও বর্তমানে ১৮নং ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার সড়কেও বিস্তৃত হয়ে পড়েছে নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড। চলছে চাঁদাবাজি। আর এ অবৈধ চাঁদাবাজি নিয়ে ১৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদ্বয়ের পারস্পরিক বক্তব্য পাওয়া গেছে। অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। বিশেষ করে সকালে স্কুল ও অফিসগামীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ডটি একটি শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসলেও কয়েক মাসের ব্যবধানে সেটি আবার আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। বর্তমানে আগের মতোই নিতাইগঞ্জের প্রধান সড়কের উপরে পণ্যবাহী ট্রাকে লোড-আনলোড চলছে। এ ছাড়া একাধিক সারি করে খালি ট্রাক পার্ক করে রাখা হচ্ছে। তবে আগে যেভাবে নিতাইগঞ্জের বোটখাল, ডাইলপট্টি ও নিমতলী মূল সড়কে অসংখ্য গাড়ি পার্ক করে লোড-আনলোড চলতো এবার ট্রাকস্ট্যান্ডের পরিধি আরো বেড়েছে। এখন নিতাইগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ড ছড়িয়ে পড়েছে ১৮নং ওয়ার্ডের সর্বত্র। নিমতলী ও ডাইলপট্টি তো রয়েছেই বর্তমানে শীতলক্ষ্যা পুল মোড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন সড়কটি (এসজি রোড) ও শহীদ বাপ্পী সড়কটি মিনি ট্রাকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। সেখানে বর্তমানে অবাধে চাঁদাবাজি চলছে। উভয় সড়কেই কমপক্ষে ৩০টি ট্রাক পার্ক করে রাখা হয়। লোড-আনলোড নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়ের জন্য কয়েকজন যুবক নিয়োজিত রয়েছেন যাদের সকলেই স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত।
জানা গেছে, দিনের বেলায় বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান প্রবেশ নিষিদ্ধ। যে কারণে দিনের বেলায় নারায়ণগঞ্জ শহরে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য শহরের খানপুরে মেট্রো সিনেমা হল মোড়ে প্রতিদিন পুলিশের কয়েকজন সদস্য নিয়োজিত থাকেন। তাদের দায়িত্ব হলো পঞ্চবটি ট্রাক টার্মিনাল থেকে যে সকল ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান টোকেন নিয়ে আসবে তাদেরই সিরাজদ্দৌলা সড়ক দিয়ে প্রবেশ করার অনুমতি দিবে পুলিশ সদস্যরা। টোকেনের একটি অংশ ওই পুলিশ সদস্যরা নিজেদের কাছে রাখবে আর অপর অংশটি ট্রাক চালককে দিয়ে দিবে। তবে সেখানেও চলে ঘুষ বাণিজ্য। এ ছাড়া মণ্ডলপাড়া পুলেও চলে ঘুষ বাণিজ্য। অর্থ দিলেই টোকেন ছাড়া ট্রাক-কাভার্ডভ্যান অবাধে প্রবেশ করতে পারে নিতাইগঞ্জে। আর এ সব কিছুই চলছে ট্রাকস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রকদের কারসাজিতে।
এ বিষয়ে ১৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর কবির হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নিতাইগঞ্জের পাশাপাশি শীতলক্ষ্যা পুল মোড় ও শহীদ বাপ্পী সড়কে লোড-আনলোড করছে আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতি। সাবেক কাউন্সিলরের সময়েও এখনো লোড-আনলোড হতো। এর সঙ্গে তিনি কিংবা তার লোক জড়িত নয়। চাঁদাবাজির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এটা সম্পূর্ণই আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির ব্যাপার।
এ ব্যাপারে আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মন্টু জানান, চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণই অপপ্রচার। তবে নিতাইগঞ্জে অবাধে ট্রাক প্রবেশের বিষয়ে তিনি অভিযোগের আঙুল তোলেন সাবেক কাউন্সিলর মোঃ কামরুল হাসান মুন্নার চাচাতো ভাই মাইনুদ্দিন সেলিম, মনির হোসেনর দিকে। মণ্ডলপাড়া পুলে টোকেন বাণিজ্য বন্ধ হলে নিতাইগঞ্জে অবৈধভাবে ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে জানতে ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ কামরুল হাসান মুন্না জানান, শীতলক্ষ্যা পুল মোড় ও শহীদ বাপ্পী স্মরণি এলাকায় যেখানে লোড আনলোড কার্যক্রম চলছে সেখানে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও একটি প্রতিবন্ধী স্কুল রয়েছে। আমি যখন কাউন্সিলর ছিলাম তখন কখনোই এই দুটি এলাকায় লোড আনলোড হয়নি। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কি অবস্থা এবং কারা চাঁদা তুলছে সেটা এলাকাবাসী সবাই জানে।
