চট্টগ্রাম বিভাগের সুন্দর এক জেলাশহর ফেনী। সমপ্রতি ফেনীর নাম ছড়িয়েছে জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা তৈরি করায়। ছোট্ট এই শহরের ছেলে সাইফুদ্দিন যে আজ দেশের ক্রিকেটের বড় আবিষ্কার।
সাইফুদ্দিনের উঠে আসাটা একদম সামনে থেকে আবিষ্কার করা মানুষটির নাম ক্রিকেট কোচ রিয়াজ উদ্দিন রবিন। আজকের গল্পটা তাকে নিয়েই। ফেনী জেলা শহরের ১৮ নং ওয়ার্ডে এই ক্রিকেট কোচের বাসা; যার ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহটা অনেক আগের। ’৯৫ সালে প্রথম বিভাগ খেলেছেন ফেনীতে, এরপর চিটাগং প্রিমিয়ার আর ঢাকায় ২য় বিভাগ খেলেছেন। ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি বয়স যখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার—ক্রিকেট না অন্যকিছু, তখন ২০০৪ সালে কুমিল্লায় ক্রিকেটার এনামুল হক মনির ছোটভাই ইমদাদুল হক ইমদু একটা ম্যাচে তাকে বললেন ‘কোচিংয়ে আসো’। বলা যায় ইমদুর অনুপ্রেরণাতেই তার চিন্তাটা প্রসারিত হয়। এরপর কক্সবাজারে লেভেল ১, ২ শেষ করেন। ক্রিকেটকে জেলাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে জেলার ক্লাবগুলোর আগ্রহও তখন অনেক বেশী। ঠিক সেই সময়টাতে (২০১১ সাল) বিসিবির জেলা কোচের দায়িত্ব পান তিনি। এখনো এই দায়িত্ব পালন করছেন একান্তমনে।
শুধু সাইফুদ্দিনই নন, একইসঙ্গে অনুর্ধ্ব-১৯ টিমে তৌহিদুল ইসলাম নামের একজনও জায়গা পান তার কোচিংয়ে। এবারের অনুর্ধ্ব-১৯ দলেও রয়েছে ফেনীর জিল্লুর রহমান বিজয়। বলা যায়, ফেনী ক্রিকেট অঙ্গনের পাইপলাইনে ঢুকে গেছে সবার প্রিয় রবিন স্যারের কল্যাণে। বয়সভিত্তিক প্রায় সবগুলো দলেই রয়েছে ফেনীর ক্রিকেটার। সাফল্যের পারদ ছুঁয়েছেন বারবার, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তার দল বিভিন্ন টুর্নামেন্টে।
বর্তমানে সবার প্রিয় রবিন স্যার ফেনী ক্রিকেট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি, বিডি ক্লিন’র উপদেষ্টা। ইত্তেফাক প্রজন্ম টিমকে তিনি বলেন, ‘জেলাশহর হিসেবে আমাদের যে ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার, সেরকম কিছু আসলেই নেই। তারপরও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আমরা প্র্যাকটিস স্টার্ফও করেছি ক্রিকেটারদের জন্য। এরকম একটি ক্রিকেটপাগল জেলার জন্য আরো নানা ধরনের সুযোগ বাড়লে ফেনী থেকে প্রতিভাগুলোকে সামনে তুলে আনা আরো সহজ হবে। তরুণ ক্রিকেটারদের বলব, সাফল্যের জন্য নিয়মতান্ত্রিকতা এবং প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি।
