সীমানা জটিলতায় প্রায় ১০ বছর ধরে আটকে আছে আমদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। প্রায় ১০ বছর ধরে ঐ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন আনারুল ইসলাম। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আমদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জানা গেছে, গত ২০১১ সালের ৯ জুন আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
আমদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান হিরা বলেন, আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, ‘সীমানাসংক্রান্ত জটিলতার দোহাই দিয়ে নির্বাচন স্থগিত থাকলেও এটি তেমন জটিল কিছু নয়। এটা নিরসন হয়ে পৌর নির্বাচন হয়েছে। সীমানা জটিলতা আর নেই। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা চান নির্বাচন হোক।’ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘গত তপশিলে আমি চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। শিগিগরই নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’ আমদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাজী শহিদুল হক বলেন, ‘আমহদ ইউনিয়নে সীমানা জটিলতা আর নেই। বিগত নির্বাচনে তপশিল ঘোষণা হয়েও নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল।’ মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘যেহেতু জটিলতা কাটিয়ে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, আমরা চাই পাশের এই ইউনিয়নের নাগরিকেরাও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাক।’
জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী বলেন, ‘২০১৭ সালে মেহেরপুর পৌরসভার বিষয়ে বাদীপক্ষ মামলাটি তুলে নিয়েছিল। এজন্য পৌর নির্বাচন আমরা করতে পেরেছিলাম। একই সঙ্গে আমদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য তপশিল ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে নির্বাচন কমিশনকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের নির্দেশ দেন আমদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত রাখতে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনের নির্দেশ পাইনি।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, ‘আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন কোনো মামলা-মোকদ্দমা থাকার কারণে বন্ধ থাকতে পারে। তার পরও আমি বিষয়টি ভালো করে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি। কোনো আইনগত সমস্যা থাকলে সেটা নিরসন করার চেষ্টা করব।’
