বিপিসির এলপিজি বেসরকারি খাতে বিক্রির উদ্যোগ

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৫১

বিপিসির মালিকানাধীন দুটি এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট থেকে বাল্ক এলপিজি বেসরকারি খাতে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিপিসির এলপিজি বাজারজাতকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ দামে কম ও গুণমানে উন্নত হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে বিপিসির এলপিজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি চক্র বিপিসির এলপিজি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে দীর্ঘদিন যাবত্ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। চক্রটি সফল হলে দেশের এলপিজির বাজার সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাত নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানা গেছে, এক বছরের জন্য বিপিসির বাল্ক এলপিজি বিক্রির জন্য বেসরকারি কোম্পানি থেকে সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সরকারিভাবে বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ও সিলেটের কৈলাসটিলায় দুটি প্ল্যান্ট রয়েছে। এই দুটি প্ল্যান্টের বার্ষিক উত্পাদন ক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার টন। তবে নানা কারণে যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে বছরে উত্পাদন ১৫/১৬ হাজার টনের বেশি হয় না। বেসরকারি কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডারের দামের চেয়ে বাজারে বিপিসির এলপিজি সিলিন্ডার ২০০/৩০০ টাকা কম। ফলে বাজারে বিপিসির এলপিজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সীমিত পরিমাণে উত্পাদিত এলপিজি বাজারজাতকরণে বিপিসির সক্ষমতা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ একটু আন্তরিক হলে এলপিজি সুষ্ঠুভাবে বাজারজাত করা সম্ভব। কিন্তু বিপিসির কতিপয় কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা লাভের জন্য বিপিসির এলপিজি বেসরকারি খাতে বিক্রি করতে ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বিপিসির এলপিজি বাজারে থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাজারে অস্থিরত সৃষ্টি করতে পারছে না। ভোক্তারা মূল্য যাচাই করে কিনতে পারছে। বেসরকারি খাতে বিপিসির এলপিজি বিক্রি করলে ভোক্তারা জিম্মি            হয়ে পড়বে। তাছাড়া বর্তমানে বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে সরকারি কোনো নীতিমালা নেই।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিপিসির এলপিজি বাজারজাতকরণে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। সরবরাহে গাড়ি, সিলিন্ডার সংকট রয়েছে। আমাদের বটলিংয়ের সক্ষমতা উত্পাদনের তুলনায় কম। প্রতিদিন ৩০ টনের বেশি করতে পারি না। আর প্রতিদিন উত্পাদন হয় ৫০ টন এলপিজি। ফলে অতিরিক্ত বাল্ক এলপিজি বিক্রির জন্য বেসরকারি পর্যায়ে টেন্ডার আহ্বান করেছি। করোনার কারণে এলপিজির চাহিদা কমে গেছে। সামনে শীতকালে চাহিদা আরো কমে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি সিলিন্ডার (১২ কেজি) কমে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। আর আমরা বিপিসি এলপিজি ভোক্তা পর্যায়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি করছি।’

বিপিসির এলপিজি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের দ্বারা বাজারজাত করা হয়। দেশে বিপিসির প্রায় ৪ হাজার ডিলার রয়েছে। জানতে চাইলে এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি খোরশেদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বিপিসির ৪ লাখ সিলিন্ডার রয়েছে। তার মধ্যে ২ লাখ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। বিপিসি নতুন সিলিন্ডার না কিনে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতে বাল্ক এলপিজি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাল্ক এলপিজি বিক্রি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর ফলে ডিলাররা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এলপিজির বাজার বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জানা যায়, দেশে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে সরকারিভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারি ও সিলেটের কৈলাসটিলা দুটি এলপিজি প্ল্যান্ট বছরে ২০ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করে থাকে। গত কয়েক দিন যাবত্ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কৈলাসটিলা প্ল্যান্টে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।