পায়রা নদীর ভাঙন

হুমকিতে তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প এলাকা!

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৮

পায়রা নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে তালতলী আইসোটেক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প এলাকা। ভাঙনে গত এক মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ছোটবগী ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, পায়রা নদী শাসন করা না হলে তালতলীর নিশানবাড়িয়া ও সোনাকাটা ইউনিয়ন অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে পায়রা নদীসংলগ্ন আইসোটেক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র ও জাহাজ নির্মাণশিল্পসহ এলাকায় সরকারের উন্নয়নের রোল মডেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম ছরোয়ার ফোরকান বলেন, আমতলী-তালতলী উপজেলাকে ভয়াল পায়রা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি। বরগুনার তালতলী উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ লতিফ তালুকদার (৯০) বলেন, ‘মোরা এক সোমায় গাঙ্গের ধারে বইয়া ওই পাড়ের মানের (মানুষ) সাতে কতা কইতাম। এ্যাহোন হেই গাঙ্গ ভাইঙ্গ্যা বড় অইয়্যা গ্যাছে। এই গাঙ্গে মোগো ঘরবাড়ি জায়গা-জমি ভাইঙ্গ্যা গ্যাছে। এই গাঙ্গে মোগো ১৫ এ্যাকর জাগা খাইছে। জায়গা জমি খুঅ্যাইয়্যা গরিব অইয়্যা গেছি।’ বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘটখালীর ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের নদীর পাড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

তালতলী উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের শানু তালুকদার ও গাবতলী গ্রামের মোশাররফ হোসেন সেন্টু ডাকুয়া বলেন, গত এক সপ্তাহে অন্তত চার একর জমি নদীতে ভেঙে গেছে। সন্ধ্যায় জমি দেখে যাই, সকালে এসে দেখি ঐ জমি নাই। পায়রা নদীর হাত থেকে বসতঘর ও জমি রক্ষায় দ্রুত ব্লক নির্মাণের দাবি জানাই। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, পায়রার ভাঙন রোধে পশ্চিম ঘটখালী, আমতলী পৌরসভা, পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলী, মৌপাড়া, গাবতলী, জলায়ভাঙ্গা ও তেতুলবাড়িয়ার আট কিলোমিটার এলাকায় ব্লক নির্মাণের জন্য ডিপিপি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রকল্প পাশ হলে দ্রুত কাজ শুরু করব।