অচল ঘাট, প্রবল স্রোত ও ফেরি সংকটে যানজট লেগেই থাকে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৮

ঘাট সচল না থাকা, প্রবল স্রোত, নাব্যতা সংকট, ফেরির স্বল্পতা ও ঘনঘন ফেরি বিকল হওয়ায় যানবাহনের চাপ বাড়ছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌ-রুটে। এছাড়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী  নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে যানবাহনের চাপ এসে পড়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে। এসব কারণে ফেরির নাগাল পেতে উভয় ঘাটে আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে ঢাকাগামী শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার অদূরে গোয়ালন্দ মোড়ে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক লাইন দিয়ে রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দিনের পর দিন সিরিয়ালে আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে।

ঘাট সমস্যা : দৌলতদিয়া প্রান্তে ছয়টি ফেরিঘাট রয়েছে। যার মধ্যে    ১ ও ২ নম্বর ঘাট দুটি গত বছরের বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এক বছর পার হলেও ঐ ঘাট দুটি সচল হয়নি। সমস্যা সমাধানে নতুন একটি ঘাট (৭ নম্বর) তৈরির কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

প্রবল স্রোত : পদ্মা নদীতে এখনো প্রবল স্রোত বইছে। ফেরিগুলো স্রোতের কারণে স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এতে পারাপারে সময় বেশি লেগে যাওয়ায় ফেরির ট্রিপ কমে গেছে। এ অবস্থায় ফেরি পার হতে আসা বিভিন্ন গাড়ির চাপ বেড়ে উভয় ঘাটে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

নাব্যতাসংকট :দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পানি কমে নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে মাঝেমধ্যেই ডুবোচরের কারণে নাব্যতাসংকট সৃষ্টি হয়। জানা যায়, প্রতিটি রো রো (বড়) ফেরি চলাচলের জন্য কমপক্ষে আট ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু পানির গভীরতা কম থাকায় বড় ফেরিগুলোর স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রায়ই দেখা যায়, ডুবোচরের বালুর ঘর্ষণে ফেরির তলদেশে থাকা ‘প্রপেলার’ ও ‘বুশ’ ক্ষয়ে গিয়ে ফেরির মারাত্মক ক্ষতি করে। এভাবে বড় ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। তবে, নাব্যতা সংকট দূর করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া চ্যানেলে খননকাজ চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।

ফেরিস্বল্পতা :দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী অধিকাংশ ফেরি বহু বছরের পুরোনো। সার্বক্ষণিক সচল রাখতে গিয়ে ইঞ্জিন সমস্যাসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঐ ফেরিগুলো ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। এ কারণে এই নৌপথে ফেরির সংকট সহসা কাটছে না। বর্তমান এই নৌপথে ছোট-বড় মিলে মোট ১৮টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি রো রো (বড়) ফেরি, তিনটি ইউটিলিটি (মাঝারি) ও দুইটি কে-টাইপ (ছোট) ফেরি সচল রয়েছে। তিনটি বিকল ফেরি মেরামতে মধুমতি ভাসমান কারখানায় পাঠানো হয়েছে।

গাড়ির চাপ বৃদ্ধি

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন ফেরি পারাপার করে থাকে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হলে এর প্রভাব পড়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে।

বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে ঢাকাগামী শত শত বিভিন্ন গাড়ি। বেনাপোল থেকে কুচিপাথর বোঝাই ট্রাকের চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত তিন দিন গোয়ালন্দ মোড়ে এসে সিরিয়ালে আটকে আছি। অথচ বৃহস্পতিবার যে গাড়িগুলো এসেছে তারা দালালদের টাকা দিয়ে পার হয়ে গেছে। বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা পাথর বোঝাই ট্রাকের ড্রাইভার জাকির হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে গোয়ালন্দ মোড়ে সিরিয়ালে থেকে ঘাটে পৌঁছাই। কিন্তু এখনো ফেরির দেখা পাইনি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক মাহাবুবুর রহমান জানান, পদ্মায় প্রবল স্রোতের কারণে বৃহস্পতিবারও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফেরিগুলোর পার হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এছাড়াও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় ঐ যানবাহনের বাড়তি চাপে ঘাট এলাকায় ট্রাকের লম্বা সারি তৈরি হচ্ছে।