নগরীর খালগুলোকে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। নগরীর ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ খালগুলোকে একে একে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর ঐতিহ্যবাহী জেলখাল পরিষ্কারের সময় খাল থেকে উঠে আসে শত শত মণ পলিথিন আর প্লাস্টিকের বর্জ্য। এসবেই পূর্ণ পুরো খাল। নগরীর বেশির ভাগ খালেরই এ অবস্থা। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে সহজে মাটির দেখা মিলছে না, উঠে আসছে কেবল পলিথিন, প্লাস্টিক—পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসীকে খালে পলিথিন, প্লাস্টিকসহ ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিসিসি সূত্র জানিয়েছে, খাল সংস্কারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত প্রকল্প পাশ না হলে বড় ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। নগরীর ২৪টি খাল সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রকল্প দীর্ঘদিনেও অনুমোদন না হওয়ায় খুব শিগিগরই জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী। তবে সিটি করপোরেশন নিজস্ব জনবল এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে সাময়িকভাবে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে নগরীর খালগুলোর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নগরীর বিশিষ্টজনদের মতে, বিসিসি মেয়রের একান্ত চেষ্টায় খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজন খাল খননসহ সেগুলোকে দখলদার মুক্ত রাখা। তাদের মতে, খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও ভূমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা করা বিসিসির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কেননা কাগজে-কলমে বরিশাল নগরীতে ৪৬টি খাল থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ খালেরই অস্তিত্ব নেই। বিগত দিনে জেলা প্রশাসন ও অতীতের মেয়ররা বারবার চেষ্টা করেও খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনি। ফলে বর্তমানে প্রবাহমান অল্প কিছু খালও ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া নদীর পানি বেড়ে গেলে জোয়ারের পানিতে নগরীর রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ডুবে যায় এবং খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভাটা আসার পরেও সহজে পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। থমকে যায় জনজীবন।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খালগুলো রক্ষণাবেক্ষণের। বর্তমানে খাল পরিষ্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা চলমান থাকলে এবং ধারাবাহিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত্ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ইত্তেফাককে জানান, তিনি দায়িত্ব নিয়েই সিটি এলাকার ৪৬টি খাল ও ১০টি পুকুর রক্ষায় পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বরিশাল পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত হবে। পাশাপাশি পর্যটন ও নৌপরিবহনে গুরুত্ব বাড়বে। নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন করাও সম্ভব হবে। মেয়র জানান, চার বছর মেয়াদি ২ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি প্ল্যানিং কমিশন এবং একনেকের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা যাবে।
সরজমিনে দেখা গেছে, নগরীর খালগুলোর অধিকাংশ স্থানেই রয়েছে দখলদারদের দৌরাত্ম্য। নগরীর রূপাতলী বটতলা মোড় মসজিদসংলগ্ন চক্রবর্তীর খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সাগরদী খালের দুই পাশ এমনভাবে দখল করা হয়েছে যে, বোঝার উপায় নেই যে এটি খাল ছিল। এছাড়া লাকুটিয়া, কাজীপাড়া, সাগরদী, টিয়াখালী, জিয়াসড়ক, আমানতগঞ্জ, নবগ্রাম, ভাটার, কাশীপুর, চাঁদমারি, পলাশপুর, নাপিতের খালও ফের ভরাট ও বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
সপ্তাহ জুড়ে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, নগর জুড়ে জলাবদ্ধতা
টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বরিশালের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলসহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে লঘুচাপের কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বরিশালে বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছে। সাগরে লঘুচাপের কারণে নদনদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
