ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গোয়েন্দা নজরদারিতে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩৭

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে তিনি বলেন, ‘অনৈতিক কাজ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বা এনআইডি উইংয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক এটা আমরা কিছুতেই চাই না। এনআইডি জালিয়াতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যেখানে যেখানে এনআইডি সেবা দেওয়া হয়, সব জায়গা পর্যায়ক্রমে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।’

সাঁড়াশি অভিযান চলবে :এনআইডি জালিয়াতির বিষয়ে ডিজি আরো বলেন, দেশব্যাপী এনআইডি কার্যক্রম তদারকিতে সাঁড়াশি অভিযান চলবে। ঢাকা জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকার প্রতিটি থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০টি টিমের মাধ্যমে সাঁড়াশি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত আট বছরে সর্বমোট ৩৯ জনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানো নির্বাচন কমিশনের একার কাজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিয়ে বিশেষ কমিটি কাজ করছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। এনআইডি নিতে যেসব দলিল লাগে, সেগুলো কীভাবে রোহিঙ্গারা পায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আলাদা রোহিঙ্গা ডাটাবেজ স্থাপন করা হয়েছে।

২ লাখ দ্বৈত ভোটার শনাক্ত

দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন রোধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে ডিজি বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইতিমধ্যে ৯২৭ জনের এনআইডি লক করাসহ ভোটার তালিকা আইনে নির্বাচন কমিশন ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছে। দ্বৈত ভোটার হওয়ার পর কেউ যদি ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে তার বিষরয় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করেছি। তবে আমরা সবার বিরুদ্ধে মামলা করিনি, করবও না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

অনলাইনে ভোটার হতে ৭৩৮

প্রবাসীর আবেদন

গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়। এখন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা services.nidw.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে ৪৮, সৌদি আরব থেকে ৩৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩০ এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১২১ জনসহ মোট ৭৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি অনলাইনে ভোটার হতে আবেদন করেছেন।

প্রবাসীদের এনআইডি সেবায় ফি নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এর জন্য খুব বেশি ফি ধরা হবে না। আর এই ফির টাকা কমিশনের ফান্ডে যাবে না। এই টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। আগামী ২৮ তারিখ কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

স্মার্ট কার্ড রপ্তানি হবে

স্মার্ট কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনআইডির মহাপরিচালক বলেন, ‘প্রথমে ফ্রান্সের একটি কোম্পানির সঙ্গে স্মার্ট কার্ডের জন্য চুক্তি করা হয়েছিল। পরে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। আমরা চাই দেশেই স্মার্ট কার্ড উত্পাদন করতে। ৯টি দেশ আমাদের দেশ থেকে স্মার্ট কার্ড নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেছে। আমরা স্মার্ট কার্ড আমদানি করব না, রপ্তানি করব।’