রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতি আর অনিয়মের খবর ইত্তেফাকে প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়ম ধামাচাপা দিতে বুধবার ভেকু মেশিন দিয়ে সড়কের পুরো কার্পেটিং তুলে ফেলা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই ঠিকাদারের লোকজন কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঐ রাস্তার প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কার্পেটিং ভেকু মেশিন দিয়ে তুলে ফেলে। দুর্নীতি ঢাকতেই ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে এই কাজ করে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ভেকু দিয়ে কার্পেটিং ওঠানোই প্রমাণ করে যে রাস্তার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। যদিও ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুমের দাবি, রাস্তার কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়নি। বৃষ্টির কারণে কার্পেটিং উঠে গেছে।
গত মঙ্গলবার ‘টান দিলেই উঠে যাচ্ছে পাঁচ দিন আগে নির্মিত রাস্তার পিচ’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশিত হলে সেদিন বিকালেই রাস্তাটি পরিদর্শন করেন দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল। এ দলের নেতৃত্ব দেন যশোরের উপপরিচালক নাজমুস সাদাত। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা জানান, দেখেই বোঝা যাচ্ছে রাস্তার কাজ নিম্নমানের হয়েছে। দুদক উপপরিচালক নাজমুস সাদাত গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বস্ত করেন রাস্তার কাজে যারা দুর্নীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। তবে শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনঃমেরামত করবেন বলে চুক্তি আছে। জানা গেছে, রাস্তার কাজের মূল ঠিকাদার খুলনার মুজাহার এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু হাত বদল হয়ে রাস্তার কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম।
