ফতুল্লার কাশীপুরের খিলমার্কেট এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সুবর্ণা আক্তার টুম্পা ওরফে বৃষ্টি (১৫) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত সুবর্ণা কাশীপুর ইউনিয়নের খিলমার্কেট এলাকার আবু সিদ্দিকের মেয়ে। সে একই এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে গোলাম রাব্বি (২২) নামে এক তরুণের স্ত্রী। উভয়ে খালাতো ভাই বোন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৫ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে সুবর্ণা ও রাব্বির বিয়ে হয়। রাব্বি একজন হোসিয়ারি শ্রমিক। বৃষ্টি তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে খিলমার্কেট এলাকার হারুন মিয়ার বাড়ির চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। গতকাল সকালে রাব্বি ও তার বাবা আসাদ মিয়া কাজে চলে যান। দুপুরে বৃষ্টির শাশুড়ি লাভলী বেগম ননদ আশামনির সন্তানকে আনতে তাদের বাড়ি যান। এরপর দুপুর ১টার পর তারা জানতে পারেন বৃষ্টি মারা গেছে।
নিহত বৃষ্টির বড় ভাই মেহেদী হাসান নাহিদ বলেন, ‘দুপুর ১টায় আমি আমার বোনের জন্য পুড়ি কিনে ওর বাসায় যাই। গিয়ে দেখি ওর ফ্ল্যাটের দরজা খোলা। আর ফ্যানের সঙ্গে বৃষ্টির লাশ ঝুলছে। সে সময় বাসায় পরিবারের কেউ ছিল না। পরে আমি পরিবারের সবাইকে খবর দেই এবং থানায় জানাই।’ তিনি বলেন, শ্বশুরবাড়িতে কিংবা অন্য কোথাও কোনো ঝামেলা হয়েছে কিনা সেটা আমরা জানি না। আত্মহত্যার কোনো কারণ দেখছি না।
নিহতের স্বামী গোলাম রাব্বি ও শাশুড়ি লাভলী বেগম বলেন, ‘আমাদের পরিবারে কোনো রকম ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। আশেপাশের কারো সঙ্গেও কোনো সমস্যা নাই। আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক রাসেল শেখ বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি বৃষ্টিকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে ফতুল্লা থানার ওসি বলেন, লাশের সুরতহালে হত্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তরে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
