ঝর্ণার গান
১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অভিযান-সেনা আমরা ছুটিব দলে দলে
বনে নদীতটে গিরি-সঙ্কটে জলে-থলে।
লঙ্ঘিব খাড়া পর্বত-চূড়া অনিমিষে,
জয় করি ‘সব তস্নস্ করি পায়ে পিষে’,
অসীম সাহসে ভাঙি’ আগল!
না-জানা পথের নকীব দল,
জোর্ কদম্ চল্ রে চল্
ক. শালিক ও শুক কোথায় মুখ বুলায়? ১
খ. ঝর্ণার কোনো বিরাম নেই কেন? ২
গ. উদ্দীপকটির সাথে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর। ৩
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে ধারণ করতে পেরেছে কি? স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর। ৪
ক. শালিক ও শুক থল-ঝাঁঝির মখমলে মুখ বুলায়।
খ. সৌন্দর্য পিপাসুদের খোঁজে ঝর্ণার কোনো বিরাম নেই।
ঝর্ণা অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী। ঝর্ণার এই অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রয়োজন তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি। যা দ্বারা এর প্রকৃত রূপ অনুধাবন করা সম্ভব। কোনো কিছুর সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে না পারলে তা প্রকাশ করা যায় না। আর এজন্যই ঝর্ণা তার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য তৃষ্ণার্ত দৃষ্টির খোঁজে অবিরাম ছুটে চলে।
গ. খাড়া পর্বত চূড়া অনিমেষে লঙ্ঘন করে অভিযাত্রিক দলের দুরন্ত ও চঞ্চল গতিতে সামনে এগিয়ে চলার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ঝর্ণার গতিময়তার দিকটি তুলে ধরেছেন। সুউচ্চ পর্বত চূড়ায় ঝর্ণার জন্ম। সেখান থেকে ছলছল করে চঞ্চল পায়ে দ্রুতগতিতে ছন্দময় তালে এগিয়ে চলে ঝর্ণা। কোনো বাধা-নিষেধ তাকে আটকাতে পারে না। আপন মনে সারাবেলা ধেয়ে চলে। অবিরাম গতিতে এগিয়ে যায় ঝর্ণা। তার নেই কোনো ক্লান্তি। উদ্দীপকে অভিযাত্রিকদের পথ চলা দুরন্ত পথিকের মতো। তারা মানে না কোনো বাধা। প্রকৃতির সর্বত্র তাদের বিচরণ। সমাজের সব বাধা-ব্যবধান তারা তছনছ করে দেয়। তাদের অসীম সাহস এনে দেয় জয়ের নিশান। নবীন দলের এই চঞ্চল পথ চলার দিকটি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার ঝর্ণার ছুটে চলার মতোই। ঝর্ণা যেমন আপন গতিতে চঞ্চল পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলে, নবীন দলও তেমনি সব বাধা-ব্যবধান ভেঙে দিয়ে অসীম সাহসে এগিয়ে যায়। আর এ দিক থেকেই উভয়ের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকটি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে পেরেছে। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার মূল বক্তব্য হলো ঝর্ণার চঞ্চল গতিময়তা। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আপন মনে ঝর্ণা ছুটে চলে সামনের দিকে। প্রকৃতি নীরব-নিস্তব্ধ হলেও ঝর্ণার অবিরাম গতি থামে না। ঝুম-পাহাড় ঘাড় ঝুঁকিয়ে, চোখ পাকিয়ে ভয় দেখালেও ঝর্ণার চলার কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। উদ্দীপকের নবীন দল ছুটে চলে জয়ের নেশায়। অজানাকে জানা, অদেখাকে দেখা ও অজেয়কে জয় করা যাদের লক্ষ্য। এ নবীন দল ছুটে চলে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে। ভয়কে তারা করে জয়। অসীম সাহসী নবীন দল কখনো পরাজয় বরণ করে না এবং সব বাধা ভেঙে চঞ্চল পায়ে এগিয়ে চলে সামনের দিকে যা ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার ঝর্ণার ছুটে চলারই প্রতিরূপ। ঝর্ণা যেমন কোনো বাধা মানে না, সামনের দিকে ছুটে চলে তেমনি নবীন অভিযাত্রিকরাও জয়ের নেশায় সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে চলে। পরিশেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে পেরেছে। কেননা, উভয়ের বিষয়বস্তুতে একই দিকের ইঙ্গিত রয়েছে।
