টাঙ্গাইলের মধুপুরে ফলবাগান বিনাশ করে বনায়ন ও কাজু বাদামের ট্রায়াল প্লট করা নিয়ে সৃষ্ট বিবাদ মীমাংসা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে বিষয়টির মীমাংসা হয়। তবে গৃহীত সিদ্ধান্তে গারোরা খুশি হলেও বাঙালিরা এ মীমাংসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার হোসেন জানান, বনকর্মীরা সম্প্রতি পেগামারি গ্রামের গারো রমণী বাসন্তি রেমার ৪০ শতাংশ কলাবাগান এবং আমলিতলা গ্রামের উমর আলীসহ ছয় বাঙালির পাঁচ একর ফল ও মসলা বিনাশ করেন। এর প্রতিবাদে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারোরা যৌথভাবে আন্দোলন শুরু করে। এমতাবস্থায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নির্দেশে বিষয়টি সুরাহার জন্য গত বৃহস্পতিবার সব পক্ষের উপস্থিতিতে দোখলা বাংলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সমস্যা নিয়ে গারো ও বাঙালিরা যৌথভাবে আন্দোলন করেছেন। কিন্তু সমাধানে বৈষম্য করা হয়েছে। গারো নেতা ইউজিন নকরেক জানান, বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত দেন, জমি বন বিভাগের হলেও বংশগতভাবে ভোগদখল করায় বাসন্তি সারা জীবন এটি ভোগদখল করবেন। ফল বাগান বিনাশের জন্য তাকে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ এবং উপজেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের কোটা থেকে বাসন্তিকে একটি বাড়ি করে দেবেন। আর বন বিভাগ কখনো আদিবাসীদের দখলীয় জমিতে বনায়ন করবে না।
অরনেখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, বৈঠকে বাসন্তি রেমার বিষয়টি ফয়সালা হলেও দরিদ্র ছয় বাঙালির ফলবাগান বিনাশ বা ক্ষতিপূরণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৈঠকে তিনি কথাটা উত্থাপন করলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বাসন্তি রেমা বন বিভাগের জমি সারা জীবন ভোগদখল করতে পারবেন। আর বাঙালিরা জমি ভোগ তো দূরের কথা কোনো ক্ষতিপূরণ পাবেন না; এটি বৈষম্যমূলক। এ সিদ্ধান্তে এলাকার বাঙালিরা ক্ষুব্ধ।
আমলিতলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উমর আলী জানান, আমরা নিজেরা ভূমিহীন। ঐ ফলবাগানের জমি ভোগদখল করে আসছি সাত দশক ধরে। গতকাল বৈঠকে দাবিদাওয়া তুলে ধরার জন্য আমরা বাংলোতে গেলে বন বিভাগ ও পুলিশ সেখানে যেতে বাধা দেয়। বৈঠক শেষে এজন্য আমরা বাংলোর সামনে বিক্ষোভ করেছি।
দোখলা রেঞ্জ অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, জমি বন বিভাগের হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তক্রমে বাসন্তি রেমার জমিতে বন বিভাগ আর গাছ লাগাতে যাবে না। অলিখিতভাবে তিনি সারা জীবন ভোগদখল করে খাবেন। তবে আমলিতলা গ্রামে বাঙালিদের ফলবাগান বিনাশ করে যে পাঁচ একর পুনঃদখল করা হয়েছে সেখানে নতুন বনায়ন হবে। সেক্ষেত্রে বাঙালিরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না। জমিতেও যেতে পারবেন না।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা জানান, বৈঠকে বাঙালিদের ফলবাগান বিনাশ এবং তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কেউ আলোচনায় আনেননি। এজন্য সেটির সমাধানও হয়নি। সহকারী বন সংরক্ষক জামাল হোসেন তালুকদার জানান, বৈঠকে বাঙালি সেটেলারদের উচ্ছেদ বন্ধ করা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটি অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জামিলুর রহমান জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বন বিভাগকে জবরদখলি জমিতে বনায়ন করতে বলা হয়েছে।
