এই পৃথিবীতে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন, কেন হাসপাতালে আসার পর অনেক লোক মারা যাচ্ছেন! তাঁর অনুসন্ধানী মন বুঝতে পারে, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার অভাব, গাদাগাদি করে থাকা, খাবার তৈরি ও পরিবেশনে অসাবধানতা হয়তো এর অন্যতম কারণ। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল হূদয় দিয়ে অনুভব করেছিলেন, বিভিন্ন স্তরের কর্মীর কাজের মধ্যে সমন্বয় ও কাজের অভাব রয়েছে। চিকিত্সা পরিষেবা কারো একার কাজ নয়। শুধু চিকিত্সকের কাজ নয়, সেবিকারও কাজ—এটি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মকাণ্ড।
সেই ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের পরে কেটে গেছে ২০০ বছর। চিকিত্সাসেবায় এসেছে নানা পরিবর্তন। সারা পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মতো আমাদের দেশেও আজ নার্সিং একটি কাঙ্ক্ষিত পেশা। তবু কতগুলি প্রশ্ন বা ফাঁক আজো থেকে গেছে। আজকের করোনা সন্ত্রস্ত পৃথিবী সেবিকাদের ঝাঁপিয়ে পড়া দেখেছে। তবু অনেক ক্ষেত্রেই নার্সিংপেশাকে আদেশ পালনের গণ্ডিতে দেখার প্রবণতা রয়েছে—বিশেষ করে বাংলাদেশে। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো নম্বর পাওয়ার পর বেশ কয়েক বছরের সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণে হাতে হাতে কাজ শেখা, পাশ করা, তারপর এই নার্সিংপেশার সম্মানপ্রাপ্তি। বিদেশে, যেমন ইংল্যান্ডে নার্স এবং মিডওয়াইফদের সম্মান অন্য রকমের। শুনেছি, ইংল্যান্ডে প্রথম দিন থেকেই পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হয়, রোগীর সেবা একটি টিম ওয়ার্ক। সেখানে ডাক্তার, নার্সসহ সবাই নিজ নিজ কাজ করছেন। কেউ ছোট বড় নন। সময় এসেছে, এই মানসিকতাকে সর্বস্তরে রপ্ত করার।
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা
