বগুড়ায় টানাবর্ষণ

আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষতির আশঙ্কা

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:০২

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বগুড়ায় মাঠে থাকা আগাম শীতকালীন সবজি ও সবজি চারার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সবজি চারা নার্সারি ও সদ্য তৈরি বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শীতকে সামনে রেখে বগুড়ার বেশ কয়েকটি উপজেলায় আগাম শীতের সবজি চাষ করা হয়ে থাকে। এসব সবজি চাষের জন্য সবজি চারার নার্সারি গড়ে উঠেছে বেশ কিছু এলাকায়। বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, ধুনট ও শিবগঞ্জ উপজেলার শীতকালীন আগাম সবজি চাষের জন্য ইতিমধ্যে চারা রোপণ করেছেন। অনেক নার্সারিতে চারা তৈরি করা হয়েছে। সবজি চারার জন্য বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় অন্তত ৫০টি নার্সারি শীতকালীন চারা তৈরি করছে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এসব সবজি খেত ও চারার নার্সারিগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে গিয়ে সবজিখেত তলিয়ে গেছে। 

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার শাহ্নগর, বিহিগ্রাম, বড়পাথার গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা সবজি চারা নার্সারি ও সদ্য তৈরি বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বর্ষণে সবজি চারা নার্সারি ও সদ্য তৈরি করা বীজতলায় পানি জমে যায়। তার পরও কৃষকেরা জমির আইল বেঁধে এবং পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে সেগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারের দুপুরের ভারী বর্ষণের কারণে নার্সারি রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় কৃষকের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শাহ্নগর গ্রামের বেলাল হোসেনের ১০ শতক জমির মরিচের চারা, আফতাব হোসেনের ২৫ শতক জমির মরিচের চারা, দুদু মিয়ার ১৫ শতক জমির মরিচের চারা, নাইম হোসেনের ১০ শতক জমির মরিচের চারা, দুরুলিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ১২ শতক জমির কপি ও মরিচের চারা, চোপীনগর গ্রামের রতন মিয়ার ২৫ শতক জমির মরিচের চারা, বিহিগ্রামের মামুনুর রশিদের ৩০ শতক জমির মরিচের চারা, বড়পাথার গ্রামের আব্দুল কাফির ২৫ শতক জমির মরিচের চারা বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই-চার দিনের মধ্যেই এসব নার্সারির কচি চারাগুলো পচে যাবে।

শাহ্নগর সবজি চারা নার্সারি মালিকসমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে অন্য পেশাজীবীদের মতো সবজি চারা নার্সারি মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার ওপর প্রবল বর্ষণে নার্সারি ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই নিমজ্জিত সবজি চারা নার্সারি, বীজতলা এবং অন্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ধুনট উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান বলেন, অতিবর্ষণে ৭০ হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজি, ৩৮ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানের জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৭২ হেক্টর জমির মরিচখেতের ক্ষতি হয়েছে। এবার সবজি চাষে লোকসান গুনতে হবে এলাকার কৃষকদের।