নওগাঁ সদর উপজেলার পিরোজপুর-শিয়ালা ঘাটে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপর ২০১১ সালে একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর সঙ্গে কোনো পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এ অবস্থায় সেতুটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো কাজে আসছে না।
জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে নওগাঁ-ঢাকা সড়কের নওগাঁ এলাকায় যানজট কমানোর জন্য নওগাঁ সদরের দক্ষিণ অংশ দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ১ কোটি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৪ টাকা ব্যয়ে ৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ২০১১ সালে সদর উপজেলার পিরোজপুর-শিয়ালা ঘাটে তুলসীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়। সে সময় ব্রিজটি উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তত্কালীন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল জলিল। ২০১৩ সালে তিনি মারা গেলে সেতু সংলগ্ন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগটিও আর অগ্রসর হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা চয়েন মুন্সি জানান, প্রয়াত জননেতা আব্দুল জলিল মারা যাওয়ার পর রাস্তা নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদ, এলজিইডি, পৌরসভায় একাধিকবার ধর্ণা দিলেও কোনো বিভাগ এগিয়ে আসেনি। ফলে এক-দেড় কিলোমিটার রাস্তার জন্য ছয়-সাত কিলোমিটার ঘুরে নওগাঁ শহরে যেতে হয়। এতে সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি টাকাও খরচ হচ্ছে বেশি।
শিয়ালাপাড়ার দিলীপ কুমার জানান, পড়ে থাকা ব্রিজটিতে জ্বালানি শুকানোসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন স্থানীয়রা। মাত্র এক/দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হলে নওগাঁ শহরের সঙ্গে স্থানীয়দের যোগাযোগ যেমন সহজ হবে তেমনি নওগাঁ-ঢাকা সড়কের নওগাঁয় যানজট কমবে।
দিলীপ কুমার, নাছিমুল হক, কাশেম উদ্দিসহ অন্যরা জানান, ব্রিজের পশ্চিমে রাস্তা না থাকায় ও নদীর পশ্চিম পাশে বাঁধ না থাকায় তাদের বর্ষা মৌসুমে ধান ডুবে যায়। আবার মাঠের ধানসহ বিভিন্ন ফসল কাদা-পানির মধ্যে আনা-নেওয়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আবার তাদের উত্পাদিত ধানসহ সবজি নওগাঁ শহরের নিয়ে যেতে অতিরিক্ত ভাড়া লাগে। দ্রুত ঐ স্থানে রাস্তাটি নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নওগাঁর প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম জানান, এলজিইডি থেকে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও অধিদপ্তরের নতুন নিয়মে দুই কিলোমিটারের চেয়ে কম রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তিনি দ্রুত যে কোনো বিভাগ থেকে রাস্তাটি নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় পৌরসভার মেয়র নজমুল হক সনি জানান, ইতিমধ্যে রাস্তাটি নির্মাণে এলজিএসপির আওতায় প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণের আশ্বাস দেন পৌর মেয়র।
