সাক্ষাত্কারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বিএনপির এমপি
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে বিজয়ী প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভুঁইয়া বলেছেন, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের স্বার্থেই ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমি বিশ্বাস করি আমাকে যারা ভোট দিয়েছে তারা জাতির বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টি অবশ্যই বুঝবে। তাছাড়া শপথ না নিলে জনগণের কল্যাণে কাজ করা যাবে না এমনটাতো নয়। খালেদা জিয়ার এই উপদেষ্টা গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাকের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পরমনান্দপুর গ্রামে ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ পেশায় একজন আইনজীবী। জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক উকিল আব্দুস সাত্তার ভুঁইয়া ১৯৭৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনসহ ২বার অর্থাত্ এনিয়ে মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালে মনোনয়ন না পেলেও টেকনো ক্র্যাট কোটায় আইন প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী হিসেবে উকিল আব্দুস সাত্তার ভুঁইয়া ধানের শীষ প্রতীকে ৮৩ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মঈনউদ্দিন মঈন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪১৯ ভোট। বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা উকিল আব্দুস সাত্তার ভুঁইয়া দীর্ঘ ২৬ বছর জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এরকম কারচুপির নির্বাচন আগে দেখেনি। ভোটতো ৩০ ডিসেম্বর নয় ২৯ ডিসেম্বর রাতেই প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হয়েছে। আমার আসনে মহাজোটের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী না থাকায় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় রাতে ব্যালটে সিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমার নির্বাচনী এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা সকাল ১০টার পর থেকে কেন্দ্র দখল তাদের পক্ষে ব্যালটে সিল দিয়েছে। আমার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় আমার বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি। আমার আসনটির মতো মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করার মতো আসনে বিজয়ী হতো। তিনি বলেন, আমার অসংখ্য নেতাকর্মী প্রশাসন কর্তৃক ব্যাপক নির্যাতিত হয়েও আমাকে বিজয়ী করেছে। আমি জনগণের কল্যাণে, সুখে দুঃখে পাশে থেকে নিজেকে উত্সর্গ করে দেব।
