শেখ হাসিনাকে জন্মদিনে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দিলেন রীভা গাঙ্গুলি

প্রতিবেশী দেশগুলোর অধিকতর সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৪

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জনগণের উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরো ভালো সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার গণভবনে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বৈদেশিক নীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয়’।” আমরা সব সময়ই মনে করি, এই অঞ্চলের জনগণের উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবার আগে অধিকতর সহযোগিতার প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের সুবিধার্থে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা হিসেবে পাঠানো একটি চিঠি ও একটি ফুলের তোড়া হস্তান্তর করেছেন।

চিঠিতে মোদি লিখেছেন, ‘আপনার জন্মদিনে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। আপনার (শেখ হাসিনা)  দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে এবং সমানভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবদান অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বহু বছর বাংলাদেশের জনগণের সেবায় শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন। ভারতের হাইকমিশনারও এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে তাকে শুভকামনা জানান। শেখ হাসিনা তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রীভা গাঙ্গুলি উভয়কেই ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের হাইকমিশনার সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সমস্যাও আলোচনায় উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে রীভা গাঙ্গুলি বলেন, এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করছে। মহামারি ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। হাই কমিশনার কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ভারতের জনগণ এবং সব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অভূতপূর্ব সমর্থন জানিয়েছিল এবং একইভাবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থলসীমা চুক্তিকেও সমর্থন জানায়। আগামী মঙ্গলবার ভারত ও বাংলাদেশের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হবেন বলেও হাইকমিশনার শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।