সময় বাড়িয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সরকারের সংগ্রহ অভিযান। চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়ায় জামানত বাজেয়াপ্তসহ ২৬১টি চালকলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেননি ঠাকুরগাঁওয়ের অধিকাংশ মিলের মালিক। এদিকে ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠেছে ফুলবাড়ীর চালের বাজার। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত পরিবার। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
কুষ্টিয়া: চাল সরবরাহে চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়ায় তিনটি অটো ও ২৫৮টি হাসকিংসহ মোট ২৬১টি চালকলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। চুক্তি উপেক্ষা করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জামানত বাজেয়াপ্ত, কালো তালিকাভুক্তকরণসহ আগামী দুই মৌসুম ঐ মিলগুলোকে চুক্তির বাইরে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জানা যায়, এবারের বোরো মৌসুমে চাল সরবরাহে জেলায় ২৯টি অটো ও হাসকিংসহ সবমিলিয়ে ৫৩৫টি মিল স্থানীয় খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এদের মধ্যে ২৬৫টি চালকল সমুদয় চাল সরবরাহ করেছে। বাকি ২৫৮টি হাসকিং ও তিনটি অটোরাইস মিলের মালিক একবারেই চাল সরবরাহ না করে চুক্তি সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করেছে। আর ১২টি হাসকিং মিলের মালিক আংশিক চাল সরবরাহ করেছে। জেলায় চাল সংগ্রহের টার্গেট ছিল ৩৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। সর্বশেষ হিসাব মতে, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত সময়সীমায় কুষ্টিয়ায় সংগ্রহ হয়েছে ২২ হাজার মেট্রিক টন। যা টার্গেটের তুলনায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কম। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাহসিনুল হক জানান, চুক্তি লঙ্ঘনকারীদের তালিকা করা হয়েছে। এদের জামানত বাতিলসহ সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও : চুক্তি অনুযায়ী জেলার ৯৯৩ জন চালকল মালিক সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেননি। এদের মধ্যে ১৩৬ জন আংশিক সরবরাহ করেছেন এবং ৮৫৭ জন কোনো চাল দেননি। এ কারণে সময় বাড়িয়েও বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি ঠাকুরগাঁও খাদ্য বিভাগ। সূত্র জানায়, এবার বোরো মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান ও ৩২ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয় খাদ্য বিভাগ। বর্ধিত সময়ের মধ্যে ২ হাজার ১৩২ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন ধান ও ১৭ হাজার ২২২ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়, যা ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর চাল লক্ষ্যমাত্রার ৫২ দশমিক ৭২ শতাংশ। চালকল মালিকদের দাবি মৌসুমের শুরুতেই বাজারে দাম চড়া থাকায় তারা ধান সংগ্রহ করতে পারেননি। এর প্রভাব পড়ে চালের বাজারেও। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, চালকল মালিকদের তাগাদা দিয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। যেসব মালিক চাল সরবরাহ করেননি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলবাড়ীতে অস্থির চালের বাজার
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) : চালের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বিপাকে পড়েছে ফুলবাড়ীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা। আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকারও বেশি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাত্ করে মিলের মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। পাইকারি চাল বিক্রেতারাও মনে করেন, মিলের মালিকরাই এখন চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। বেশি দামে চাল কেনায় বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে মিলের মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়াসহ ধান সংকটে চালের দাম একটু বেড়েছে।
