নারী ফুটবলারদের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০৬

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

কয়েক মাস আগে ঘোষণা হয়েছিল বাফুফের আওতায় থাকা নারী ফুটবলারদের বেতনের আওতায় আনা হবে। এখন নতুন বছরেই এই ফুটবলারদের বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাফুফে। আগামী ১৮ জানুয়ারি নারী ফুটবলারদের বাবা-মাকে ঢাকায় আসতে বলেছে বাফুফে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানিয়েছেন বাবা-মাকে ডাকা হয়েছে কারণ সেদিন ফুটবলারদের চুক্তির বিষয়টা জানানো হবে। বেতন ভাতাসহ কী কী সুযোগ সুবিধা থাকবে তা জানানো হবে। সোহাগ বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি চুক্তি হবে। বাবা-মা স্বাক্ষর করবেন। আর যদি না হয় তা হলে কবে চুক্তি করবেন সেটাও নির্ধারণ হয়ে যাবে।’ তিনি জানান, বাফুফের স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পল স্মলিকে নারী ফুটবলারদের বেতন কাঠামো তৈরি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কাকে কতটাকা বেতন দেয়া যেতে পারে তাকে সেটি তৈরি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বড়দিনের ছুটি কাটাতে যাওয়া পল ঢাকায় ফিরে পরিকল্পনাপত্র বাফুফের হাতে তুলে দেবেন।

নারী ফুটবলারদের বেতন নির্ধারণের জন্য তিনটি গ্রেড চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তিন গ্রেডের মধ্যে সবার উপরে থাকা ‘এ’ গ্রেডের ফুটবলারদের বেতন মাসে ১০ হাজার টাকা করে হতে পারে। এভাবে নিচের দিকে ‘বি’ গ্রেড এবং ‘সি’ গ্রেডের খেলোয়াড়দের বেতন নির্ধারণ করা হবে। শুধু বেতনই নয়; একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে আরো নানা ধরনের সম্মানী। দল চ্যাম্পিয়ন হলে থাকতে পারে পুরস্কার। কোনো খেলোয়াড় নজরকাড়া নৈপুণ্য মেলে ধরতে পারলে তার জন্য থাকবে উত্সাহভাতা। কোনো ফুটবলার খেলার এমন একটি মুহূর্তে গোল করলেন যার সুবাদে দল কোয়ার্টার ফাইনালে বা সেমিফাইনালে উঠল কিংবা ফাইনালে জয় পেল। সবকিছুই বিবেচনায় থাকবে যেন খেলোয়াড়রা মাঠে আরো বেশি পরিশ্রমি হতে পারেন।

বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন নারী ফুটবলারদের সঙ্গে চার পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হবে। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটা করতে হবে কারণ বেতনটা বাবা-মায়ের হাতেই যাবে। আর আমরা খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো নিয়ে আসলাম কিছু দিন পর বাবা-মা এসে বলবে আমার মেয়েকে ফুটবল খেলাবো না। বাড়ি ফেরত নিয়ে গেল। তা হলে আমাদের সব বিনিয়োগ বিফলে যাবে।’

চুক্তিপত্রে শর্ত থাকবে ৫ বছরের মধ্যে বিয়ে দেয়া যাবে না। প্রশ্ন হচ্ছে বিয়ের উপযুক্ত মেয়েকে নিয়ে বাবা মায়ের দুশ্চিন্তায় থাকবে কেন? কিরণ বলেছেন, ‘এখনই বিয়ে দিতে হবে এমন কোনো খেলোয়াড় ক্যাম্পে নেই। আগামী ৫ বছর পর্যন্ত বিয়ে না দিলেও চলবে এমন বয়সের খেলোয়াড়দের চুক্তির আওতায় আনব। যাদের পরিবারেও কোনো ক্ষতি হবে না।’

যদিও ফুটবল ভবনে মেয়েদের ক্যাম্পে চলিশ পঞ্চাশ জন খেলোয়াড় রয়েছে। সবার সঙ্গে চুক্তি হবে কিনা তা নিশ্চিত না। তবে জানা গেছে ৩৬ ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করতে চায় বাফুফে। বেতনের আওতায় আসার খবরে জুনিয়র দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা দারুণ খুশি,  ‘কতো টাকা দেয়া হবে তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে একটা কাঠামোর মধ্যে ঢুকতে যাচ্ছি আমরা। আমাদের বাবা-মাকে ঢাকা আসতে বলা হয়েছে।’ শামসুন নাহার বলেছেন, ‘চুক্তির বিষয়টা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। শুধু জানি কিছু একটা হতে যাচ্ছে এ জন্য আমাদের বাবা-মাকে ঢাকায় আসতে বলেছে। চুক্তি করবে।’ নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন মেয়েদের বেতন কাঠামো প্রবর্তনে দারুণ খুশি। তার মতে, ‘মেয়েরা বেতনের আওয়তায় আসলে তারা আরো বেশি ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবে মাঠে।’