অর্থনীতি প্রথমপত্র
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
যেসব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক কার্যাবলী পরিচালিত হয় তাকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলা হয়। বর্তমানে বিশ্বে চার ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। যা নিম্নরূপ:
ক) ধনতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা।
খ) সমাজতান্ত্রিক, নিয়ন্ত্রিত অর্থব্যবস্থা।
গ) মিশ্র অর্থব্যবস্থা।
ঘ) ইসলামী অর্থব্যবস্থা।
নিম্নে এই চার ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বর্ণনা করা হলো:
ক) ধনতান্ত্রিক, পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা (Capitalistic Economy):যে অর্থব্যবস্থায় উত্পাদনের উপকরণ ও সম্পদের উপর ব্যক্তিমালিকানাধীন স্বীকৃত এবং সেই সাথে উত্পাদন, বন্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকে তাকে ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বলা হয়। এ বাজার ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যতিত ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদ প্রতিফলিত হয়।
খ) সমাজতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রিত অর্থব্যবস্থা : সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার ঠিক বিপরীত। যে অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উত্পাদন উপকরণের মালিকানা রাষ্ট্রের এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলা হয়। এ অর্থব্যবস্থায় উত্পাদিত দ্রব্য ভোগ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। তাছাড়া দ্রব্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারের কোনো ভূমিকা থাকে না। মোট কথা- উত্পাদন, বণ্টন, ভোগ থেকে শুরু করে দ্রব্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন লক্ষ্য নয় বরং সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য।
(গ) মিশ্র অর্থব্যবস্থা (Mixed Economy) : পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সমন্বিত রূপই হলো মিশ্র অর্থব্যবস্থা। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উত্পাদন উপকরণের মালিকানার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিমালিকানা পাশাপাশি বিরাজ করে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ই একত্রে ভূমিকা পালন করে। অর্থাত্ মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি এবং সরকার উভয়ই সম্মিলিতভাবে দেশের সার্বিক কল্যাণে অবদান রাখে।
ঘ) ইসলামী অর্থব্যবস্থা : যে অর্থব্যবস্থায় ইসলামী শরীয়তের আলোকে অর্থনৈতিক কার্যাবলী সম্পাদিত হয় এবং কোরআন ও সুন্নাহ এর বিধি-বিধান দ্বারা সমস্যার সমাধান করা হয় তাকে ইসলামী অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা একমাত্র আল্লাহ্্ তা’য়ালার। আল্লাহ্’র নির্দেশে মানুষ তা ভোগ করে। মূলত: চারটি উেসর ভিত্তিতে ইসলামী অর্থব্যবস্থা পরিচালিত হয়। যথা- ১. পবিত্র কুরআন; ২. সুন্নাহ বা হাদীস; ৩. ইজমা বা ঐক্যমত্য এবং ৪. কিয়াস। উপরোক্ত আলোচনায় চার ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। এই ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাসমূহ দেশের সামাজিক তথা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখে।
