টানা বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাতালে নষ্ট হচ্ছে ধান

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৭

দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বৃহত্তর ধান ও চালের মোকাম  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় ৩০০ চাতালকল রয়েছে। এ উপজেলার থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার টন চাল সরবরাহ করা হয়। তবে টানা বৃষ্টির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে চাল সরবরাহ। এ বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিকভাবেই ঐসব মোকামে চাল সরবরাহ সম্ভব হবে না। ৩০০ চাতালকলে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সিদ্ধ ও ভিজিয়ে রাখা ধান। এসব ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাতাল মালিকরা। এসব চাতালে কর্মরত আছে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। বর্তমানে টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে না পারায় মজুরি পাচ্ছেন না তারা। ধার-দেনা করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছেন।

চাতাল মালিক মেহেদি শিকদার জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে হাউজে থাকা ভিজিয়ে রাখা ধান ও মাঠে সিদ্ধ ধান না শুকাতে পারায় আমার অনেক ক্ষতি হবে। কারণ এই ধান দিয়ে চালে উত্পাদন করেও ভালো দাম পাওয়া যাবে না। তার মতো অন্যান্য চাতাল মালিকরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পানিতে ভেজানো ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া খোলা মাঠে টুপরি দিয়ে রাখা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অধিকাংশ চাতাল কলের হাজার হাজার মণ সিদ্ধ ধান নষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে।

আশুগঞ্জ উপজেলা অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির জোবায়ের হায়দার বুলু বলেন, এমনিতেই মোকামে ধান সংকটে ধানের মূল্য বেশি, এরই মধ্যে আবার বৃষ্টি। ধান সংকট ও বৃষ্টির কারণে আশুগঞ্জ মোকামে ধানের আমদানি এমনিতেই কম। বর্তমানে উপজেলার শতাধিক চাতালকলে প্রায় অর্ধলাখ টন ধান সিদ্ধ করে রাখা আছে। বাকি চাতালগুলোতে অর্ধলাখ টন ধান রয়েছে হাউজে ভেজানো। টানা বৃষ্টির কারণে এসব ধান শুকানো যাচ্ছে না। আশুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আশুগঞ্জের চাতাল মালিকদের বেশ ক্ষতি হয়েছে।  তবে এই ক্ষতি দুরনে সহায়তা করার সুযোগ আমাদের নেই।