সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব, দুর্নীতি, অবকাঠামোগত সমস্যা, মেধাস্বত্ব প্রভৃতি বিষয়গুলো বাংলাদেশে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা ব্যবসায় সহজীকরণের অন্যতম বাধা। যে কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ভোক্তাবাজার হলেও মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে ইতস্তত করছে। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে, তবুও সব সমস্যার সমাধান জরুরি।
আগামী বুধবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করলেন। তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের জটিলতা নৌপথে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার অর্থনৈতিক জোনগুলো করছে যে উদ্দেশে, যদি বিদ্যমান অসুবিধাগুলো দূর না করলে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে না। সোমবার ঢাকায় দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, সরকার কিছু কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিলেও সেগুলো কতটা সাফল্য আনছে তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে এখনো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। অথচ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, পর্যটন, কৃষি, হালকা প্রকৌশল প্রভৃতি খাত ব্যাপক সম্ভাবনাময়। সমস্যাগুলো দূর করা গেলে এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য প্রবেশে উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলেন, এটা সত্যি নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে বেশি শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য ঢুকতে হচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানি চিত্র দেখলেই সেটি স্পষ্ট হবে। অনেকেই জিএসপি সুবিধার কথা বলেন। জিএসপি তৈরি পোশাকশিল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশ যদি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, তবে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবে। চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন জিএসপি সুবিধার ঘোষণা দিতে পারে। কংগ্রেস জিএসপি নিয়ে নতুন কিছু ভাবছে। সেক্ষেত্রে মানদণ্ডগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, আসছে আলোচনা বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূরীকরণ ও সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একজন আন্ডার সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান নেতৃত্ব দেবেন।
