বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও মেলেনি চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪১

৩১ শয্যার বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৫ সালে অবকাঠামোর উন্নয়ন শেষে ৫০ শয্যার উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি ৫০ শয্যার চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন। পাঁচ বছর পরেও সুযোগসুবিধা না বাড়ায় হাসপাতালে আগত রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মেহেদি হাসান জানান, ৫০ শয্যার বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ এ পদ রয়েছেন ২৬ জন। এর মধ্যে ২১টি পদই শূন্য। সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু, নাক-কান-গলা, গাইনি, চর্ম ও যৌন রোগ, চক্ষু, অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ফার্মাসিস্ট, ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট, কার্ডিওগ্রাফার, ইমার্জেন্সি অ্যাটেনডেন্ট, ওয়ার্ডবয়, মালি, অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী ও পাঁচ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ শূন্য রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল, জিন্নাবাজার এলাকার কোহিনুর বেগম, রবিয়ারচর গ্রামের হারুন মিয়া, আকলিমা বেগম, আবদুস সাত্তারসহ বেশ কয়েকজন রোগী জানান, হাসপাতালে সময়মতো ডাক্তার পাওয়া যায় না। চাহিদার তুলনায় ওষুধও কম পাই। বেশির ভাগই ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়।

বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজিম শাহরিয়ার জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এবং রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় ডাক্তাররা খুবই চাপে থাকেন। অনেক সময় রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। বকশীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রউফ তালুকদার জানান, ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য সব প্রক্রিয়া চলমান। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু হবে। সমস্যাও কেটে যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী বলেন, বর্তমানে বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন ডাক্তার রয়েছেন। এর মধ্যে তিন জন কাজ করছেন করোনা ওয়ার্ডে। বাকি ১০ জন ডাক্তারের মধ্যে সাত জনকে সাব-সেন্টার থেকে ডেপুটেশনে বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে তারা স্ব স্ব সাব সেন্ট্রারেও দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ১০ জন ডাক্তার দিয়ে রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় অনেক সময় চিকিত্সা কাজে বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু কোনো ডাক্তারের দায়িত্ব পালনে অবহেলা নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রতাপ নন্দী আরো বলেন, ২০১৩ সালে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। অবকাঠামোর কাজ শেষ হয় ২০১৫ সালে। সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি ৫০ শয্যার অবকাঠামোর  উদ্বোধন করেন। কিন্তু চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন না হওয়ায় জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে শতভাগ ৫০ শয্যার সুযোগসুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৩১ শয্যার জনবল বিশেষ করে চিকিত্সকের ঘাটতি নেই। জনবল সংকটসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সমাধান হবে।