সার্টিফিকেট জালিয়াতি করায় মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত 

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:১০

বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন জালিয়াতি করে চাকরি নেয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তিনি বিএড, এমএ ও এমএড পরীক্ষার সার্টিফিকেট দু'টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করেন। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে প্রধান শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: তারিকুল ইসলাম খান সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের স্থলে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো: তারিকুল ইসলাম খান জানান, মো: জাহাঙ্গীর হোসেন ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষকের পদে চাকুরী নেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে  শিক্ষক ও একাধিক সদস্যের মধ্যে সার্টিফিকেট দেখে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। সভাপতি হিসেবে প্রধান শিক্ষকের সার্টিফিকেট সঠিক কিনা যাচাই করতে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং দারুল ইহসানের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহামুদা বেগম, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের ২০০৭ সালের ফলাফল সেমিস্টার ও ইংরেজিতে এমএ পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৪২ এর সার্টিফিকেট জাল বলে লিখিতভাবে জানান। এছাড়াও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে এমএ বর্তমানে নেই পূর্বেও ছিলনা বলে জানান। প্রধান শিক্ষক ওই বিষয়ে এমএ সার্টিফিকেট দাখিল করে চাকরি নেন। অপরদিকে ঢাকার দারুল ইহসান থেকে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন পরীক্ষা দেননি তা ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান।  

এদিকে  প্রধান শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন এসব জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে নিজেই ভুয়া সিল দিয়ে তা সত্যায়িত করে দাখিল করেন এবং প্রধান শিক্ষক পদে চাকরি পেতে বিএড সনদ বাধ্যতামূলক হলেও সেই সনদই জাল বলে অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক পদে চাকরির জন্য পূর্বের যে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন মাদ্রাসার সেই অভিজ্ঞতার সনদও তিনি জাল করেন। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করাকালীণ মো: জাহাঙ্গীর হোসেন কিভাবে বেসরকারি দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ক্লাস করেন ও পরীক্ষা দিলেন সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।  

এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য ঝালকাঠির শাহ মাহমুদিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মো: নুরুল ইসলাম তালুকদারকে আহ্বায়ক, চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজিম সরদার ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মতিয়ার রহমানকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পান। 

অপরদিকে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর অভিযোগ এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশালের উপ-পরিচালক, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিদর্শক, বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, রূপালী ব্যাংকের বানারীপাড়ার শাখার ম্যানেজার, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি ও সদস্যসহ ১৮ জনকে বিবাদী করে সহকারী জজ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর জানান আমি উত্তরা আজমপুর ক্যাম্পাস থেকে পাস করেছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বনানী ক্যাম্পাস থেকে ভুয়া রিপোর্ট পেয়েছেন বলে জানান।

ইত্তেফাক/এমএএম