সৈয়দপুর উপজেলায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২০০ মাটির ঘর ধসে পড়েছে। এতে মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়টুকু হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। ফলে তারা নতুন করে ঘর তুলতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল হাসনাত বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জানা গেছে গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে ২০০ মাটির ঘর ধসে গেছে। এসব ঘরবাড়ির তালিকা করা হচ্ছে। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টির শেষ দিন শনিবার দিবাগত রাতে সৈয়দপুরে ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির ফলে গ্রামাঞ্চলে বন্যা সৃষ্টির সঙ্গে শহরগুলোও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পানিতে রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ, পুকুর-ডোবা ডুবে যায়। ঘর ও গাছ ভেঙে পড়ে। মাছ ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘরভাঙাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান তারা ইতিমধ্যে সংস্কার করলেও বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র মানুষগুলো। সরজমিনে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বেলপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঐ পাড়ার সাতটি মাটির ঘর ধসে গেছে। এর মধ্যে তিনটি কোনোরকমে মেরামত করা সম্ভব হলেও বাকিগুলো একেবারে মাটিতে মিশে গেছে। এদের মধ্যে মৃত সোবহানের স্ত্রী আমেনা বলেন, ভিক্ষা করি কোনোরকমে পেট চালাই। মাথা গোঁজার জোড়াতালি দেওয়া ভাঙাচোরা নড়বড়ে একমাত্র ঘরটাও কাইতান সাতাওয়ে (প্রবল ঝড়বৃষ্টি) তছনছ হয়ে গেছে। কি করে এ ঘর ঠিক করব ভেবে পাচ্ছি না। তবে মেম্বার বলেছে সরকারি বরাদ্দ আসলে ঘর করে দিবে।
কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম লোকমান জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি কাঁচা ও মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসিম আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের তালিকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে করা হচ্ছে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
