শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য তৈরি হয়েছে এক ধরনের খ্যাপামো। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন কোমপানি তাদের পণ্যের লেবেলে ইমিউনিটি শব্দটি জুড়ে দিয়ে বাজার দখল করতে চাইছে। সে ভোজ্য তেলই হোক বা স্বাস্থ্যবর্ধক পানীয়ও হোক। ভিটামিন ডি, ই আর জিঙ্কে ভরপুর পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রলুব্ধ করছে আমজনতাকে। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে মার্চ-এপ্রিল নাগাদ বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের লেবু, মুসাম্বি প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল, বিকচ্ছিল দু’তিন গুণ দামে। পাওয়া যাচ্ছিল না ভিটামিন সি ট্যাবলেট। যাঁরা খাচ্ছিলেন, তাঁরা আত্মতৃপ্তি পাচ্ছিলেন নিশ্চয়ই। করোনাত্রস্ত মানুষ নিস্তার পেতে মরিয়া। কিন্তু এভাবে চটজলদি ইমিউনিটি বাড়ানো যায় না। বরং হিতে বিপরীতও হতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন সমস্যা ডেকে আনতে পারে, এমনও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া, এক পাতা ট্যাবলেট গিলে ইমিউনিটি বাড়িয়ে যদি করোনা ভাইরাসকে রুখে দেওয়া যেত, তাহলে মাসের পর মাস লকডাউন, এত স্বাস্থ্যবিধি এবং কোভিড হাসপাতালের প্রয়োজন হতো না। মোদ্দা কথা, মানুষকে নিজেদের স্বাভাবিক প্রতিরোধ শক্তি দিয়েই লড়াই করতে হবে করোনার সঙ্গে—এর বিকল্প কিছু নেই।
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা
