শতাধিক মামলার পলাতক আসামি রিয়েল এস্টেট ‘মাফিয়া’ ইমাম হোসেন নাসিমকে বিদেশি অস্ত্র, জালনোট ও মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এত দিন পলাতক ছিলেন। র্যাব-৪-এর একটি দল বুধবার রাতে রাজধানীর রূপনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বিফ্রিং করে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হোসেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, নাসিম কথিত নাসিম রিয়েল এস্টেটের মালিক। অন্যের খাস জমি দখল করে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সঙ্গে বায়না করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ লাখ করে টাকা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ২৫০ জনের সঙ্গে ভুয়া চুক্তিপত্র করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করেন নাসিম। এভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন তিনি। নাসিম ১৬টি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাত্ করে আসছেন। তবে সবগুলোই ভুয়া প্রতিষ্ঠান।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০০২ সালে অস্ত্র প্রদর্শন পূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে সাভারের কাউন্দিয়ায় খাস জমি দখল করে নিজেকে কথিত নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক পরিচয় প্রদান করে সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখেন তিনি। পরে সেখানে আবাসিক শহর গড়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন। তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হালিমা আক্তার সালমা এসব প্রতারণার কাজ দেখেন। ভুক্তভোগী মানুষেরা নাসিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শতাধিক মামলা করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ৫৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতারণা সংক্রান্ত অসংখ্য জিডি ও অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত নাসিম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও প্রতারণার আরো ৪টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাতে মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় নাসিমের বাসায় ও চিড়িয়াখানা রোডে নাসিম রিয়েল এস্টেটের অফিসে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। সেখান থেকে একটি ৭.৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, জাল ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ১৪০০ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ৬টি পাসপোর্ট, ৩৭টি ব্যাংক চেক বই এবং ৩২টি মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নাসিম বিভিন্ন সময়ে নামে-বেনামে ৩২টি সিমকার্ড ব্যবহার করেছেন। আর এই সিমগুলো দিয়ে প্রতারণা করে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যেতেন এবং কখনো কখনো অস্ত্র দেখিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেন। গ্রেফতার এড়াতে এতদিন তিনি আন্ডার গ্রাউন্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংবলিত দরজাযুক্ত গোপন কক্ষে থাকতেন।
র্যাব জানায়, এই প্রতারকের বাড়ি ভোলায়। তার বাবা বেলায়েত হোসেন গ্রাম্য ডাক্তার ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাকে নিয়ে তার বাবা রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে নাসিম মিরপুর এলাকায় পড়ালেখা করেন। তিনি নিজেকে গ্র্যাজুয়েট দাবি করেন। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিতাসের তৃতীয় শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০২ সালে নাসিম রিয়েল এস্টেট কোম্পানি গড়ে তোলেন।
