গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারানো গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর রাসেল সরকার ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরো ২০ লাখ টাকা পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানিকে তিন মাসের মধ্যে এই টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রশ্নে জারিকৃত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। এর আগে ২০১৯ সালে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তিকালীন আদেশে রাসেল সরকারকে প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৫ লাখ টাকা প্রদানের জন্য গ্রীন লাইনকে নির্দেশ দিয়েছিল। ঐ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রীন লাইন রাসেলকে তিন দফায় মোট ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা প্রদান করে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিল চিকিত্সা খরচসংক্রান্ত। বাকি টাকা কিস্তিতে দেওয়ার আদেশ থাকলেও তা স্থগিত করে দেয় আপিল বিভাগ। এখন চূড়ান্ত রুল নিষ্পত্তি করে ২০ লাখ টাকা প্রদান করলে সব মিলিয়ে রাসেল পাচ্ছেন ৩৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
আইনজীবীরা বলছেন, এই রায়ের ফলে বাসের মালিক ও চালকরা সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাবেন। কারণ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে যে পার পাওয়া যাবে না, সেটা এই রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায়ের পর পা হারানো রাসেল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ২০ লাখ টাকা কেন, আমাকে এক কোটি টাকা দেওয়া হলেও তো আমি আগের জীবনে ফিরতে পারব না। পা ফিরে পাব না। তবে আদালতের রায়ে যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছি সেটা একটা ব্যাংকে রেখে সেখান থেকে মাসে যে অর্থ আসে তা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে হবে। তিনি বলেন, যারা এই ধরনের বেপরোয়া ড্রাইভিং করেন তারা সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। চালকদের একটি তুচ্ছ ভুলের কারণে আরেক জনের জীবন অন্ধকারে নিপতিত হচ্ছে।
গ্রীন লাইন পরিবহনের কৌঁসুলি শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, রুল শুনানিকালে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছিল আমরা কত টাকা দিতে পারব। তখন আমি আদালতে বলেছিলাম আগে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা দিয়েছি। এর বাইরে আরো ১৫ লাখ টাকা দিতে পারব। তখন আদালত বললেন, ১৫ লাখ টাকা দিতে পারলে আরো ৫ লাখ টাকা দিতে পারবেন। অর্থাত্ আদালত আরো ২০ লাখ টাকা দিতে বলেছেন। যেহেতু রাসেল একটা পা হারিয়েছে সেজন্য মানবিক কারণে এই টাকা দিতে আমরা সম্মত হয়েছি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, হাইকোর্ট বলেছে দেশে নিরাপদ সড়ক আইন আছে। ঐ আইনে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার জন্য ফান্ড গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামীতে যে কেউ এ ধরনের ঘটনায় হাইকোর্টে এলে ক্ষতিপূরণ পাবে না। এ মামলায় একটি পুলিশ প্রতিবেদন ছিল। যেখানে বলা হয়েছে—গ্রীন লাইনের বাসের চালক ইচ্ছাকৃতভাবে রাসেলকে চাপা দেয়। ঐ প্রতিবেদন আমলে নিয়েছে হাইকোর্ট।
রিটকারী পক্ষের কৌঁসুলি খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, করোনা পরিস্থিতি, ব্যবসায় মন্দাসহ সব দিক বিবেচনা করে আদালত দুই পক্ষের সম্মতিতে আরো ২০ লাখ টাকা দিতে বলেছে।
২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল হানিফ ফ্লাইওভারের ঢালে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসটি রাসেলের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। রাসেল একটি বেসরকারি সংস্থার গাড়ি চালাত। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় ঐ চালকের। এক পর্যায়ে গ্রীন লাইনের চালক রাসেলকে চাপা দেয়। এতে তার ডান পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তার পা কেটে ফেলতে হয়। এ নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন উম্মে কলসুম স্মৃতি।
