আবুল কাসেম ভূঁইয়া
দেশে বেশির ভাগ সবজি উত্পাদন হয় রবি মৌসুমে অর্থাত্ অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় সবজি চাষ খুব কম হয়। মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টিপাত ও খরার কারণে সবজির উত্পাদন কম হওয়ায় বাজার মূল্য বেশি থাকে। একটু কৌশল অবলম্বন করে সারা বছর ধরে সবজি চাষ করা যায়। মৌসুম শুরুর আগেই যদি আগাম সবজি উত্পাদন করে বাজারজাত করা যায় তাহলে সবজির দ্বিগুণের বেশি দাম পাওয়া যাবে। যে কৌশল অবলম্বন করে সারা বছর ধরে সবজি চাষ করা বা আগাম শীতকালীন সবজি উত্পাদন করা যায় তার নাম টানেল টেকনোলজি। সোজা কথায় ছাউনি দিয়ে সবজি চাষ। এই কৌশলের মাধ্যমে শীতকালীন সবজিকে গ্রীষ্মকালে চাষ করা কঠিন। কারণ শীতকালীন সবজি চাষের জন্য যে ধরনের তাপমাত্রা প্রয়োজন সেই ধরনের তাপমাত্রা কৃত্রিম পরিবেশে তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল। প্লাস্টিক ছাউনি ব্যবহারের মাধ্যমে শীতকালে খুব সহজেই সৌরশক্তি সঞ্চয় করে তাপমাত্রা বাড়িয়ে নেওয়া যায়। যা শীতকালে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের জন্য যথেষ্ট। টানেল টেকনোলজি বা ছাউনি পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে যেসব সবজি খুব সহজে চাষ করা যায় সেগুলো হলো শসাজাতীয় সবজি, টম্যাটো, পালংশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম ইত্যাদি।
এই পদ্ধতিতে সবজি চাষের জন্য যে জমিটি বাছাই করা হয় তা অবশ্যই উর্বর হতে হয়। মাটির পিএইচ থাকতে হয় পাঁচ থেকে সাতের মধ্যে। টানেল তৈরির পর জমি কোদাল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে ভালোভাবে চাষ করে প্রতি টানেলে পর্যাপ্ত জৈব সার ২.৫ কেজি খৈল, ইউরিয়া ৮০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম এবং এমপিও ৭০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়। ইউরিয়া ও পটাশ সারের অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক চারা গজানোর দুই সপ্তাহ পরে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। এগুলো সম্পন্ন হলে চারা বা বীজ রোপণের আগে বেড তৈরি করে নিতে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতে টানেল প্রতি ২০০ গ্রাম পালংশাকের বীজ বুনলে এক মাস পর অর্থাত্ আষাঢ় মাসে ফসল তোলা যায়।
