আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৬

ভারত রপ্তানি বন্ধের পর বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও অস্থিরতা কাটছে না পেঁয়াজের বাজারে। মাঝে কয়েক দিন দাম স্থিতিশীল থাকলেও গত দুই দিনের ব্যবধানে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনেও নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয় যা এক দিন আগেও ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেশি।

ভারত তাদের সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এক লাফে পেঁয়াজের কেজি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। সরকারি ও বেসরকারিভাবে দ্রুত বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। টিসিবি অনলাইনে ও খোলাবাজারে সারা দেশে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। আমদানি বাড়াতে পেঁয়াজের ওপর থেকে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমছে না।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ের একটি আদালতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে সেদেশের রফতানিকারকরা একটি রিট করেছেন। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে করা এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে খোলা এলসির সংখ্যা ও পরিমাণ জানাতে ভারতীয় রফতানিকারকদের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়।

কলকাতার রফতানিকারক অনিল ঠাকুর জানান, মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের রফতানিকারকরা গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের আদালতে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি চেয়ে রিট আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত বাণিজ্য মহাপরিচালক বিজয় কুমার স্বাক্ষরিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে যেসব এলসি করা হয়েছে তার সংখ্যা এবং তাতে পেঁয়াজের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারতের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে রফতানিকারকদের বলা হয়। আগামী ৭ অক্টোবর এ সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত আসবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

এদিকে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও মোজাম হোসেন বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে এলসি করা পেঁয়াজের চালানগুলো বাংলাদেশে রফতানি করা হবে। এ ব্যাপারে ভারতের রফতানিকারকরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করছি, আগামী ৭ অক্টোবর থেকে আমাদের আগের এলসি করা পেঁয়াজ আমরা পাব।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বরের ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তখন আগের এলসি করা সব পেঁয়াজ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান। এ ব্যাপারে দেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ভারত সিদ্ধান্ত দেয় যে, আগের এলসি খোলা ও বাংলাদেশের সীমান্ত পয়েন্টে অপেক্ষমাণ পেঁয়াজের ট্রাকগুলোকে বাংলাদেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রায় ২৬ হাজার টন পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক শ’ টন পেঁয়াজ দেওয়ার পর আর কোনো পেঁয়াজ দেয়নি। এখন ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আগের এলসি করা পেঁয়াজ রপ্তানির জন্য রিট করল। দেশের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, আগের এলসি করা ২৬ হাজার টনের সব পেঁয়াজ ভারত রপ্তানি করলে দেশের বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।

বাড়ল তেল ও চালের দাম

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা না কাটতেই এবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে লিটারে বেড়েছে ৫ টাকা। এতদিন ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ৫৩০ টাকায় বিক্রি হলেও কোম্পানিগুলো এখন দাম নির্ধারণ করেছে ৫৫৫ টাকা। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) দ্রব্যমূল্য পর্যবেক্ষণ সেলকে বিপণন কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই ক্রেতাকে বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হবে বলে রাজধানীর খুচরা তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এদিকে সরকার চালের দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। উলটো চালের দাম আরো বেড়েছে। টিসিবির হিসেবে, সব ধরনের চালের দাম বাজারে আরো এক দফা বেড়েছে। গতকাল মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৪ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে ৪৮ থেকে ৫৪ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ২ টাকা বেড়ে ৫৪ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।