গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
দেশের অন্যতম বৃহত্ নান্দনিক স্থাপনা গোপালপুর উপজেলার হেমনগর রাজবাড়ির দেখভালের দায়িত্ব নিচ্ছেন সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হান্নান মিয়ার নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একটি টিম রাজবাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের এ তথ্য জানান। এ সময় গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রওশন খান আইয়ুব, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ এলাকার গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, হেমনগর রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী। তিনি ছিলেন মধুপুর উপজেলার আমবাডিয়া জমিদারের উত্তরসূরি। জমিদারি পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি ১৮৮০ সালে গোপালপুর উপজেলার সুবর্ণখালি নদী বন্দরে প্রাসাদ নির্মাণ করেন। কিন্তু যমুনার ভাঙনে সেটি বিলীন হলে ৩ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে শিমলাপাড়া মৌজায় ১৮৯০ সালে প্রায় ১৮০০ বিঘার ওপর পরিদালান নামে দ্বিতল রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। ভবনের মূল অংশে উড়ন্ত দুই পরির ভাস্কর্য ছিল। সামনের অংশে লতাপাতা আর ডেকোরেশন ছিল চোখে পড়ার মতো। কড়ি আর পাথরে মোড়াই ছিল রাজবাড়ির মূল অংশ। মূল ভবনটি চার বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত। উঁচু প্রাচীরে ঘেরা রাজবাড়ির উঠান চত্বর শেষে প্রশস্ত দীঘি। সুবিশাল শানবান্দা ঘাট ছিল সাদা পাথরে মোজাইক করা। রাজবাড়ির সিংহ দরজার সামনেও ছিল শান বাঁধানো দীঘি। রাজবাড়ির দক্ষিণ প্রান্তে গড়ে উঠে হেমনগর বাজার। কালক্রমে হেমচন্দ্রের নামানুসারে গ্রামের নামকরণ হয় হেমনগর। হেমচন্দ্র ১৯২৫ সালে কাশিতে মারা যান। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় তার উত্তরসূরিরা ভারতে পাড়ি জমান। একাত্তর সালে বিশাল রাজবাড়ি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। ১৯৭৯ সালে রাজবাড়িতে স্থাপিত হয় হেমনগর কলেজে। দীর্ঘ দিন সংস্কার ও মেরামতের অভাবে মূল ভবনের ছাদে ফাটল ধরে। জানালা দরজা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি যায়। নানা ছুঁতায় প্রভাবশালীরা জমিদার বাড়ির আশপাশের জমিজমা দখলে নেয়। হেমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রওশন খান জানান, এ রাজবাড়ির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সামন্ত যুগের ইতিহাসের অন্যতম উত্স। কিন্তু অবহেলা অযত্নে বাড়িটা এখন জীর্ণদশায় উপনীত। পলেস্তারা খসে পড়ে ইটসুড়কি মুখ ব্যাদান করে তাকিয়ে আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ভবনটির দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ায় এলাকাবাসী খুবই খুশি। হেমনগর ইউনিয়ন ্অওয়ামী লীগ সম্পাদক আনিসুর রহমান হীরা জানান, জীর্ণ রাজবাড়ির সংস্কার এবং কিছু সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করলেই এটি হতে পারে পর্যটনের অন্যতম উত্স। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায় জানান, ভবনের স্থাপত্য রীতিতে ভারতীয় ও ইউরোপীয় কলাকৌশল দৃশ্যমান। গেজেট ভুক্তির পর উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।
