বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার, কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
জয়পুরহাটের কালাইয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে হঠাত্ করে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে খুচরা বাজারে ক্রেতা সাধারণের এখন নাভিশ্বাস। বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
সরেজমিনে উপজেলার পাঁচশিরাবাজার, পৌরবাজার, মাত্রাইহাট, পুনটহাট, মোসলিমগঞ্জহাট, মোলামগাড়ীহাটে চালের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, মাস দেড়েক আগেই উপজেলার কৃষকরা ফসলি জমি থেকে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। এখন ধান সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। গত পাঁচ দিন আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪৭ টাকা দরে, বর্তমানে যা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। তাছাড়া ৪৫ টাকা দরের কাটারি চাল এখন ৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার মাত্রাইহাটে চাল কিনতে আসা জাহাঙ্গীর আলম ও রবিউল ইসলাম জানান, সপ্তাহখানেক আগেও ২৯-জাতের ধানের চাল কিনেছেন প্রতি কেজি ৩৯ টাকায়, কিন্তু সেই চালই এখন ৪৬ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। আর ২৮-জাতের ধানের চাল কিনেছেন প্রতি কেজি ৪১ টাকা, সেই চালই বর্তমান ৪৭ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত চালের দাম বাড়ায় তারা এখন বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় ভ্যানচালক খালেক ও রমজান আলী বলেন, এভাবে চালের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
উপজেলার মোহাইল গ্রামের কৃষক মোর্শেদ ও খালেক জানান, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট করে ধান মজুত করে রেখে এখন বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি করছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা।
উপজেলার পাঁচশিরাবাজারের খুচরা ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মেসার্স তালের চাউল ঘরের স্বত্বাধিকারী আবু তালেব সরদার ও মেসার্স ভাই বোন চাল ঘরের স্বত্বাধিকারী আ. হান্নান মণ্ডল বলেন, ধান সংকটে ফেলে মাঝারি ও বড় মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে দরে চাল ক্রয় করছি তা সামান্য লাভে বিক্রি করছি।
কালাই উপজেলার চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল বারী বলেন, এই এলাকায় কোনো ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পায়নি। আমরা মিলে ধান থেকেই চাল উত্পাদন করি। ধান ও চালের সংকট নেই। এলাকার এক শ্রেণির অসাধু খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চালের বাজার অস্থিতিশীল করেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, উপজেলায় মাঝারি ও বড় মিলারদের কাছে অনেক ধান মজুত রয়েছে। তাছাড়া এই সময়ে চালের দাম কিছুটা বাড়ে। এছাড়া বেশ কিছু দিন থেকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে মিলার, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীদের চাল তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তাই কিছুটা চালের দাম বাড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোবারক হোসেন পারভেজ বলেন, প্রায় প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজার-মনিটরিং করা হচ্ছে। এর পরও কেউ যদি অবৈধভাবে ধান-চাল মজুত রাখেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
