চট্টগ্রামে সবজির দাম চড়া

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৬

চট্টগ্রামের বাজারে সবজির দাম শুনে ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ পড়ছে। প্রতিটি সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। ৪০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছে না। সব ধরনের সবজি গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১৫/২০ টাকা করে বেড়েছে। কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। তার পরও সবজির দাম বাড়তি। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী বলে দাবি করছেন। সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়েছে। এদিকে খুচরা বাজারে এক ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও ডজন ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন, বন্যায় উত্তরবঙ্গের অনেক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত। আগের মতো ডিম মিলছে না। তাই দাম বেড়েছে।’

আলু ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও অন্য সবজিগুলো ৬০ টাকার নিচে মিলছে না। বাজারে দেখা গেছে, বেগুনের কেজি ৮০ টাকা, বরবটি, পটোল, কাঁকরোল ও ঝিঙা কেজি ৭০ টাকা।  এছাড়া কচুর লতি এক আঁটি (এক কেজির কম) ৬০ টাকা, কচুর ছড়া ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, টম্যাটো ১২০ টাকা, শিম                ১৩০ টাকা ও মুলা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়া কেজি ৫০ টাকা ও পেঁপে কেজি ৪০/৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বহদ্দারহাটের সবজি বিক্রেতা সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টি ও বন্যায় সবজি নষ্ট হয়েছে। পাইকারি বাজারে আগের মতো সবজি আসছে না। তাই দাম বেড়েছে।’ নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে রয়েছে ১২০টি সবজির আড়ত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে এনে সবজি বিক্রি করে থাকেন। দেখা গেছে, আড়তগুলোতে বিভিন্ন ধরনের প্রচুর সবজি মজুত রয়েছে। আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা শুধু কমিশনে সবজি বিক্রি করি। বৃষ্টি ও বন্যায় উত্তরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগের মতো সবজি আসছে না। তবে সামনে শীতকালীন সবজি বাজারে আসলে দাম কমে যাবে। রিয়াজউদ্দিন বাজার কাঁচা সবজি আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুদ্দিন বলেন, আগে প্রতিদিন শতাধিক গাড়ি আড়তে আসতো। এখন ৬০/৭০টি গাড়ির বেশি আসে না।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নাছির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বছরের এই সময়ে সবজির দাম বাড়তি থাকে। আগামী ১৫/২০ দিন পর শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন দাম কমে যাবে।’ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের বাজার মনিটরিং অফিসার মো. সেলিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে এখন পঞ্চম বারের মতো বন্যা হচ্ছে। সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই দাম ঊর্ধ্বমুখী।’