কেঁচোসার উত্পাদনে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫১

কেঁচো সার তথা জৈব সারের চাহিদা রাসায়নিক সারের চেয়ে অনেক বেশি। রাসায়নিক সার ব্যবহারে দেশি মিঠা পানির বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায়। রাসায়নিক সারে উত্পাদিত চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, রসুন, হলুদ, জিরা, ধনিয়া যাবতীয় মসলা প্রাণীজ আমিষ জাতীয় খাবার মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজি ইত্যাদিতে বিষক্রিয়ার ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। সিলেট জেলার বিয়ানিবাজারে কেঁচোসার বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন শুরু হয়েছে। প্রতিমাসে এর লক্ষমাত্রা ৫০ মেট্রিক-টন, উত্পাদন প্রক্রিয়া সহজ ও লাভজনক হওয়ায় অনেক শিক্ষিত নারী-পুরুষ এক্ষেত্রে এগিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে। এর কাঁচামাল কচুরিপানা সহজে পাওয়া গেলেও স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে কেঁচো কিনতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রমতে, ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রামের মাধ্যমে কেঁচোসার উত্পাদন বিষয়ে আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ২০ টন উত্পাদন হলেও খুব কম সময়ের মধ্যে পঞ্চখণ্ড কেঁচোসার উত্পাদন সক্ষমতা মাসে দাঁড়াবে ৫০ মেট্রিক টন। একজন কৃষকের প্রতিমাসে ন্যূনতম ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে। কেঁচোসার উত্পাদনের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহূত হয় গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছের টুকরা—এসব যেখানে সহজলভ্য সেখানেই উত্পাদন লাভজনক হবে। কেঁচোসার উত্পাদনে লোকসানের সম্ভাবনা নেই। এ সার পেতে বিয়ানিবাজার ছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অনেক নার্সারি ও ছাদ কৃষির মালিক প্রি অর্ডার দিতে শুরু করেছেন। এ উদ্যোগকে সফল করতে হলে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় যে কৃষি অফিস তার আওতায় বেকার যুবক ও কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচোসার উত্পাদন কারখানা সম্প্রসারণে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থাসহ জাতীয়ভাবে প্রথম থেকে দশম স্থান অধিকারী কৃষি অফিসের কর্মজীবীদের সম্মাননা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ব্যবস্থা সফল হলে সারে ভর্তুকি দেওয়া কমে আসবে। এতে গ্রামাঞ্চলে বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নসহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

আব্বাস উদ্দিন আহমদ

ধোপাদিঘির দক্ষিণ পাড়, সদর,

সিলেট ৩১০০