জো ক স

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৫

g সত্যজিত্ বিশ্বাস

দোষ কার?

কোচ :কী ব্যাপার, তুমি তো বললে আজ গুলির মতো বল ছুঁড়বে। কী বোলিং করলে এটা? 

বোলার :গুলিই তো ছুঁড়েছি।

কোচ :তাই নাকি? তাহলে গুলিগুলো গেল কোথায়?

ক্যাপ্টেন :কই আর যাবে? বেশির ভাগই মাঠের বাইরে।  

বোলার :এটা কিন্তু অন্যায়। তোমরা সবাই মিলে আমার পিছনে লাগছ কেন? অন্যের দোষের দায়ও কি আমার?

ক্যাপ্টেন :অন্যের দোষ মানে?  

বোলার :এগুলো যে গুলি ছিল বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা তা বুঝতে পারেনি। তারা রসগোল্লা মনে করেছে। এখন সে দোষও কি আমার?     

বড় কথাটা কী?

বন্ধু :কীরে, আজ কয়টা উইকেট পেলি? 

পেসার বোলার বন্ধু :উইকেট পাওয়াই কি বড় কথা নাকি?

বন্ধু :তাহলে মেইডেন ওভার কয়টা পেলি?

পেসার বোলার বন্ধু :মেইডেন ওভার পাওয়াই কি বড় কথা নাকি?

বন্ধু :তাহলে তোর কাছে বড় কথাটা কী?

পেসার বোলার বন্ধু :বোলিং করতে সুযোগ পাওয়াটাই বড় কথা। ওটা পেলে বাকি সব তো ওয়ান, টু-এর ব্যাপার।  

ডিমের দাম বাড়তি

শরীফ :আরে দোস্ত, কলেজের অনুষ্ঠান একটা গান গেয়ে ফেল।

বাবু :না রে, ভয় করছে খুব!

শরীফ :আরে শালা, এই তো সুযোগ কলেজের সবার সামনে নিজেকে প্রমাণ করার, হিরো হওয়ার। 

বাবু :আরে না, আমার গলা কী এত ভালো?

শরীফ :তাতে সমস্যা কী? তুই শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিস। ডিমের দাম কত বাড়তি, তা জানিস?

হাতে কলমে শিক্ষা

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে সিলেট সিক্সার্সের প্রথম খেলা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে। সিলেট সিক্সার্সের সাব্বির লিটনকে দেখে খুব খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরল।

সাব্বির :দলে তোমাকে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমি তো ফর্ম হারিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছি। তুমি তো দুর্দান্ত দুটো মিশন শেষ করলে, কিছু টিপস দাও তো।

লিটন :আমি তো এখন ব্যাটিংয়ে নামছি। আমার খেলাটা ফলো করো। হাতে কলমে শিক্ষার উপর কোনো শিক্ষা নেই।

স্কোর :দুজনেই পাঁচ বলে আউট। দুজনেই মেহেদির বলে আউট। দুজনেই ক্যাচ আউট।   

 

পাওয়ার

কোচ :ভাবছিলাম, তোমার বলে পাওয়ার আছে।

অলক কাপালি :অবশ্যই পাওয়ার আছে।

কোচ :এমন বোলিং পিচে ৩ ওভার পুরা বল না করেও ২৪ রান দিলে, তারপরও বলছ পাওয়ার আছে? 

বোলার :অবশ্যই আছে। ব্যাটসম্যান তার পাওয়ার দেখিয়েছে, আমি আমার পাওয়ার। 

 

নাম না লেখা বল

কোচ :কে কে ওপেনার ব্যাটসম্যান হতে চাও, হাত তোলো। 

খেলোয়াড়রা সবাই চুপ।

কোচ :দেখ, এটা টি টোয়েন্টি ম্যাচ। এখানে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সবাইকে সাহস নিয়ে খেলতে হবে। মনে রেখ, প্রতিটা বলে যার নাম লেখা আছে, সে আউট হবেই। যতই পালাও, লাভ নেই। যদি সাহস করে খেলতে নামো আর সেই বলে নাম না লেখা থাকে তবে তোমাকে আউট করার সাধ্য কারও নেই। সুতরাং ভয় পাওয়ার কোনো মানেই নেই। এবার বলো, কে কে ওপেনিংয়ে নামতে চাও? 

খেলোয়াড়রা তবুও সবাই চুপ।

কোচ :আশ্চর্য, তোমরা বিপক্ষের বল এত ভয় পেলে খেলবে কী করে?

অধিনায়ক :কে বলল, আমরা বিপক্ষের সব বল নিয়ে ভয় পাচ্ছি?

কোচ :তাহলে?

অধিনায়ক :আমরা তো ‘নাম না লেখা বল’ নিয়ে ভয় পাচ্ছি না। 

 

শুধু একটু পরিবর্তন

কোচ :শোন, অধ্যবসায় আর ধৈর্যই শেষ পর্যন্ত সাফল্য বয়ে আনে। আমি দশ বছর ধরে ক্রিকেট খেলে গেছি। কিন্তু সাফল্য পাইনি। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি। পরিশেষে এর মূল্য পেলাম।

অধিনায়ক :আশ্চর্য তো! আপনি কী করেছিলেন? 

কোচ :শুধু নিজের মধ্যে একটু পরিবর্তন এনেছিলাম। 

অধিনায়ক :কী পরিবর্তন?

কোচ :খেলোয়াড় থেকে কোচ। 

 

থাপ্পড়ের মহিমা

এক যাত্রী বাসের কন্ডাক্টরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করতে করতে জোর করে বাসে উঠেছে বাণিজ্যমেলার সামনে নামবে বলে। বাণিজ্যমেলার সামনে আসতেই বাস কন্ডাক্টরকে বললেন নামিয়ে দেওয়ার জন্য।  

বাস কন্ডাক্টর :আগেই তো কইছি, এইখানে গাড়ি থামব না। 

যাত্রী :বললেই হলো থামবে না? এটা কী মগের মুল্লুক? গাড়ি থামাও, আমি নেমে যাব।

বাস কন্ডাক্টর :কইলাম তো, এখানে গাড়ি থামব না। 

যাত্রী :থামবে না মানে? এক থাপ্পড় মারলেই থামবে।

বাস কন্ডাক্টর :কী কইলেন? আমারে থাপ্পড় মারবেন?

(সঙ্গে সঙ্গে বাস থেমে গেল। ড্রাইভার উঠে এল সিট ছেড়ে।)

ড্রাইভার :মারেন তো দেখি ওরে?

যাত্রী :ওরে মারতে যাব কেন? বললাম, বাসের গায়ে একটা থাপ্পড় মারলেই তো বাস থেমে যাবে।  

যাত্রী নেমে রওনা দিলেন বাণিজ্যমেলার উদ্দেশে। 

 

সোনার দোকান

ছেলেটি :তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে।

মেয়েটি :কী বললে? আয়নায় একবার নিজের চেহারা দেখেছ? আন স্মার্ট, ক্ষেত! কিভাবে প্রপোজ করতে হয়, তাও জানে না। তুমি জানো কত গাড়ি-বাড়িওয়ালার ছেলে আমার চারপাশে ঘুরঘুর করে। তোমার বাবার কী আছে শুনি? 

ছেলেটি :সোনার দোকান। 

মেয়েটি :ইয়ে মানে শোনো, এটা আগে বলবে না? 

 

শীতকাল না?

বাচ্চা মেয়ে :মা, দেখ ছবি এঁকেছি। খুব সুন্দর হয়েছে না?

মা :কই? কিসের ছবি এঁকেছ মা? 

মেয়ে :শীতকালের গাছপালা, মানুষ, রাস্তা এসবের ছবি।  

মা :কই? গাছ পালা, মানুষ, রাস্তা কিছুই তো আঁকোনি।  

মেয়ে :তুমি কিচ্ছু বোঝ না। শীতকালে বরফ পড়ে গাছ পালা, মানুষ, রাস্তা সব বরফে ঢেকে গিয়েছে না? আর বরফের রং কি সাদা হয় না?

অভিন্ন গন্তব্য

বাসে প্রচণ্ড ঠাসাঠাসির মধ্যে এক যাত্রী অন্য যাত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন।  

প্রথম যাত্রী :আপনি কই যাবেন? 

দ্বিতীয় যাত্রী (বিরক্ত হয়ে) :জাহান্নামে। 

প্রথম যাত্রী :যাক বাবা ভালোই হলো, আমার মতো আরও একজনকে পেলাম তাহলে। 

দ্বিতীয় যাত্রী :তার মানে?

প্রথম যাত্রী :আমার স্ত্রী ঘণ্টা দুয়েক আগে বের হয়েছে জাহান্নামের উদ্দেশে, তাকে খুঁজতে যাচ্ছি। 

দ্বিতীয় যাত্রী :ও আচ্ছা।

বাসশুদ্ধ মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল, আর একটা কথা বিনিময় না করেও দুইজনই বাণিজ্যমেলার সামনে নেমে গেল।