বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল

পচন ধরেছে খেতের সবজি ও ধানে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:০১

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পচে যাচ্ছে তারাগঞ্জের দোয়ালীপাড়ার সবজি ও আমনখেত। দেখা গেছে, পানিতে গত এক সপ্তাহ ধরে ডুবে ছিল তারাগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। গত তিন দিন ধরে ধীরগতিতে পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু দিনের পর দিন পানিতে ডুবে থেকে পচন ধরেছে নতুন লাগানো আমন ধান, বেগুন, পটোলসহ বর্ষাকালীন সবজি খেত ও আগাম বপন করা শীতকালীন সবজি খেতে। এই উপজেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, যেসব আমন ধানের খেত পানিতে নিমজ্জিত ছিল তা পচে দুমড়ে মুচড়ে পড়েছে। আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালীপাড়ার দোলায় দেখা যায়, যত দূর চোখ যায় ততদূর পর্যন্ত আমন ধানের খেত পচে দুমড়েমুচড়ে আছে। এ অবস্থা শুধু আলমপুর ইউনিয়নের নয়, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর, রহিমাপুর, ইকরচালী ইউনিয়নের জগদিসপুর, বরাতি, হাড়িয়াকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়িসহ উপজেলার সব ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর কমবেশি একই অবস্থা। এছাড়াও উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সবজি খেত পানির নিচে আছে। সবজি চাষি রুহুল আমিন, সেরাজুল, শাকিলসহ কয়েক জন  জানান, গত কয়েক দিন আগের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেওয়ায়, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আগাম জাতের শীতকালীন সবজিখেত পানির নিচে পড়ে যায়। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন বেগুন, পটোল খেতেও হাঁটু সমান পানি ওঠে। খেতের পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেতগুলো মরে যাচ্ছে। হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বাবুল জানান, বন্যার পানি ধীরগতিতে নামার কারণে পানিতে নিমজ্জিত এলাকার আমন ধান ও সবজিখেত পানির নিচে বেশি সময় ধরে থাকার কারণে পচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যে জমির ফসল আংশিক পানিতে ডুবেছে সেই জমির ফসল এখনো ভালো আছে। একই কথা বলেন, কুর্শা ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক সরকার, আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, সয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আজম ও ইকরচালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ উর্মি তাবাসসুম বলেন, চলতি বছরে ৯ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান লাগানো হয়েছে। তার মধ্যে সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৮০০ হেক্টর জমির ফসল এবং ৩০০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ৯০ হেক্টর সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জরিপের কাজ চলছে।